জুলাই সনদ স্বাক্ষরের দিনেও জুলাই যোদ্ধাদের রাজপথে নামতে হয়েছে—এটা লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের পুলিশের হাতে জুলাই যোদ্ধাদের মার খাওয়া জাতির জন্য লজ্জার বিষয়। অনেক দলের দাবি মেনে নেওয়া হচ্ছে, অথচ যারা সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদেরই বঞ্চিত করা হচ্ছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে জামায়াতের নেতাকর্মীদের মতো এতটা নির্যাতনের শিকার আর কেউ হয়নি। তাই জুলাই বিপ্লবের মজলুমদের কষ্ট আমরা গভীরভাবে অনুভব করি।
শুক্রবার রাজধানীর মিরপুর-১০ এর সেনপাড়া পর্বতা ঈদগাহ মাঠে ঢাকা-১৫ আসনের উদ্যোগে আয়োজিত এক শ্রমিক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ছাত্র, তরুণ, যুবক ও শ্রমিক শ্রেণির ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের মুখে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে বিদেশে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। এই আন্দোলনে বহু মানুষ জীবন দিয়েছেন, অগণিত মানুষ আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। তিনি দাবি করেন, জুলাই বিপ্লবে এক হাজার শহীদের তালিকা তাদের হাতে রয়েছে, যার ৬০ শতাংশই শ্রমিক শ্রেণির মানুষ। এদের অধিকাংশই সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি।
অন্যদিকে, জুলাই ঘোষণাপত্রের মতো জুলাই সনদ নিয়েও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে। এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন জানিয়েছেন, সনদের অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান না হলে তারা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।
তিনি বলেন, জুলাই সনদের বাস্তবায়নের পথ অনুল্লেখ থাকা এবং এতে ধোঁয়াশা থাকার কারণে সনদ স্বাক্ষরের অনুষ্ঠান থেকে বিরত থেকেছে এনসিপি। সনদটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা না পেলে অর্জিত সবকিছুই বিফলে যাবে।
আখতার হোসেন আরও বলেন, ঐকমত্য কমিশনের সময় বাড়ানোর মধ্যেই সনদ বাস্তবায়নের পথনকশা, বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলোর সমাধান, স্পষ্ট খসড়া আদেশ এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য ২০২৬ সালকে সংবিধানিক রেফারেন্স পয়েন্ট হিসেবে উল্লেখ করার বিষয়গুলো স্পষ্ট করতে হবে।
আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হলে এনসিপি নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পালন করবে বলেও তিনি জানান।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জুলাই সনদে স্বাক্ষরের আগে তিনটি দাবি জানান—
১️⃣ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের খসড়া প্রকাশ করতে হবে,
২️⃣ তা প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নামে জারি করতে হবে, এবং
৩️⃣ জুলাই সনদের বৈধতার উৎস হতে হবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান।
তিনি আরও জানান, সনদের ৮৪টি সংস্কার বিষয়ে গণভোট হবে, যেখানে ‘নোট অব ডিসেন্ট’-এর আলাদা কার্যকারিতা থাকবে না। জনগণ যদি গণভোটে জুলাই সনদের পক্ষে রায় দেয়, তবে সেই রায়ের ভিত্তিতে আগামী নির্বাচিত সংসদ সংবিধান সংস্কার করবে, যার নাম হবে “বাংলাদেশ সংবিধান, ২০২৬”।
নাহিদ ইসলাম বলেন, এসব নিশ্চয়তা ছাড়া জুলাই সনদে স্বাক্ষর দেওয়া মানে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা।
