ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক ছাত্ররাজনীতিতে জটিল ক্ষমতার লড়াই ও নেতৃত্ব পরিবর্তনের পটভূমিতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘বাগছাস’ ও ‘ছাত্রশক্তি’ নামের দুটি সংগঠন। একসময় শিবির ঘরানার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই ধারা এখন কার্যত বিলুপ্ত।
সূত্র মতে, সাদিক কায়েমের রাজনৈতিক উত্থানকে ঘিরে শিবিরের অভ্যন্তরে বড় ধরনের পুনর্গঠন ঘটে। তাঁর পাশে যিনি ছিলেন—আব্দুল কাদের—তিনিই একসময় শিবিরের তরফ থেকে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের নয় দফা ঘোষণা পাঠ করেন। তরুণ প্রজন্মের কাছে ‘জুলাই আন্দোলন’ ঘিরে সাদিক কায়েম যখন একজন কৌশলী ও প্রভাবশালী নেতৃত্বে পরিণত হচ্ছিলেন, তখন সংগঠনের ভেতরকার ভারসাম্য নষ্ট হতে শুরু করে।
জানানো হয়, শিবিরের সক্রিয় নেতা সিবগাতুল্লাহ সিবগা কাদেরকে সংগঠনের কৌশলগত দিক থেকে উচ্চ মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সময় জনাব নাহিদ নামের এক নেতা ‘বাগছাস’ (বাংলাদেশ গণচেতনা ছাত্র সংসদ) নামে নতুন সংগঠন গঠনের উদ্যোগ নেন। এতে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক হওয়ার কথা ছিল কাদেরের। কিন্তু নাহিদের কৌশলে আহ্বায়ক বানানো হয় কাদেরের জুনিয়র বাকেরকে, আর কাদেরকে সীমিত করে দেওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বায়ক পদে।
অন্যদিকে, সাদিক কায়েম তখন তরুণদের মধ্যে প্রবল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। আল জাজিরাসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তিনি ‘জুলাই আন্দোলনের ইমাম’ হিসেবে আলোচনায় আসেন। তাঁর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ব্যাপক বিজয় আসে, যা ছাত্ররাজনীতির গতিপথ বদলে দেয়।
ডাকসু নির্বাচনের পর ‘বাগছাস’ বিলুপ্ত করে নতুন সংগঠন ‘ছাত্রশক্তি’ গঠন করা হয়। তবে আশ্চর্যের বিষয়—নতুন কাঠামোয় কাদেরের কোনো নাম নেই। ফলে যিনি একসময় রাজনৈতিক মঞ্চে সক্রিয় ছিলেন, তিনি এখন কার্যত ছায়ার আড়ালে চলে গেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি বাংলাদেশে ছাত্ররাজনীতির ভেতরে ক্ষমতার ভারসাম্য, ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং নেতৃত্ব সংকটের একটি প্রতিচ্ছবি। ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে—আদর্শের রাজনীতি টিকিয়ে রাখা কঠিন, আর যারা সাময়িক স্বার্থে ব্যবহার হন, তারা সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যান।
একই প্রেক্ষাপটে, অনেক পর্যবেক্ষক মনে করছেন—সাদিক কায়েম এখন শুধু একজন সংগঠক নন, বরং এক প্রজন্মের প্রতীক হয়ে উঠেছেন; আর আব্দুল কাদেররা হয়তো আগামী দিনে শুধুই এক বিস্মৃত অধ্যায় হয়ে যাবেন।
