রাজধানীতে আগামী কর্মসূচি ঘিরে নিরাপত্তা এবং শান্তি বজায় রাখতে সতর্কতা অবলম্বনের ঘোষণা দিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের কথিত ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি নিষেধ ঘোষণার পর বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ কিছু সংগঠন ওই দিনে মাঠে থাকার প্রস্তুতি নিয়েছে। তারা বলছে—সহিংসতা প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ-প্রশাসনকে সহযোগিতা করা হবে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখা হবে।
আসন্ন পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সরকারি সূত্র ও গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, ১৩ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার দিন। রায় ঘোষণার দিনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের কিছু অডিও বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে—যেগুলোতে ওই দিন ঢাকায় ‘লকডাউন’ কর্মসূচি আহ্বান করা হয়েছে। এরপরই রাজধানীতে কয়েকটি স্থানে বিচ্ছিন্ন বোমা নিক্ষেপ, বাসে আগুন এবং আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে; কিছু স্থানে দ্রুত গার্ড মিছিলও করা হয়েছে।
গোয়েন্দা সংস্থার ধারণা—১৩ নভেম্বরকে সামনে রেখে কিছু স্থানে নাশকতা ঘটাতে পারে। নাশকতাসহ বোমা হামলার অভিযোগে ইতিমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ঢাকা থেকে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে টার্গেট করা হতে পারে বলেও সংশ্নিষ্টরা বলছেন। সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা জোরদার ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
গত মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোর কমিটির সভায় বিশৃঙ্খলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর পর থেকে ঢাকার প্রবেশপথ, আবাসিক হোটেল, মেস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হলে বিশেষ তল্লাশি শুরু হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ডিএমপি ১৪২ স্থানে বড় ধরনের নিরাপত্তা মহড়াও চালিয়েছে; প্রায় সাত হাজার সদস্য অংশগ্রহণ করেছেন। মহড়ায় সচিবালয়, হাইকোর্ট, বঙ্গভবন, প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ও তেজগাঁওয়ের অফিসও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
সরকারি আহ্বানে সাড়া দিয়ে সব পক্ষও নিজেদের অবস্থান থেকে প্রস্তুতি নিয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং আইনের শাসন বজায় রাখতে নিজেদের ভূমিকা পালন করবে বলেই ঘোষণা দিয়েছে কিছু দল। জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনও ওই দিন মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছে।
বিএনপির প্রতিক্রিয়া
বিএনপি বলেছে—আওয়ামী লীগের পরিকল্পিত ‘লকডাউন’-এর নামে যদি কোনো ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম করা হয়, তা প্রতিহত করতে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিন্যের সাথে করে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখবে। দলের একাংশ জানিয়েছে, এখনও কেন্দ্রীয় নির্দেশনা না পেলেও স্থানীয়ভাবে সতর্ক অবস্থান নেয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক বলেন, রাজধানীতে কোনো ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চলতে দেয়া হবে না; সক্রিয়ভাবে সহায়তা করা হবে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম মজনু বলেছেন—কোনো নির্দিষ্ট দলীয় নির্দেশ না আসলেও নেতাকর্মীরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে থাকবে যাতে অপশক্তি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে।
জামায়াতের অবস্থান
জামায়াত আনুষ্ঠানিকভাবে তৎপরতা ঘোষণা না করলেও তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি জনগণকেও সাবধানতা অবলম্বন করার আহ্বান জানিয়েছে। জামায়াতের নেতা বলেছেন, অতীতের হুমকির কারণেই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং পরিস্থিতি বুঝে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আনুষ্ঠানিকভাবে তারা কোনো তৎপরতা করবে না—তবে প্রয়োজনে প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রস্তুতি থাকবে।
এনসিপির ঘোষণা
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বলেছে—আওয়ামী লীগ যদি মাঠে নামে এবং নাশকতা চালায়, এনসিপি তাৎক্ষণিকভাবে মোকাবিলার ঘোষণা করবে। দলটি সতর্ক অবস্থানে থেকে প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেবে।
মঞ্চ ও সংগ্রামী ঘোষণাসমূহ
জুলাই আন্দোলনের অগ্রভাগের কিছু নেতাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনসমাবেশ ও প্রতিরোধের কথা ঘোষণা করেছেন। এক নেতার স্ট্যাটাসে ১৩ নভেম্বর শাহবাগে ভোরে জড়ো হওয়ার আহ্বান এবং দিনভর সড়কে অবস্থান করার কথা বলা হয়েছে।
