রাজনৈতিক মাঠে এখনো জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়নি। এর মধ্যেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় দলীয় প্রচারণা নিয়ে উত্তেজনা, পোস্টার ছেঁড়া ও প্রতিপক্ষকে বাধা দেওয়ার মতো অভিযোগ বাড়তে শুরু করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুরুতেই এমন পরিস্থিতি উদ্বেগজনক; নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
সাম্প্রতিক অভিযোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলো এসেছে জামায়াত মনোনীত কয়েকজন সংসদ সদস্য প্রার্থীর প্রচারণা বাধাগ্রস্ত হওয়ার বিষয়ে। নারায়ণগঞ্জ–৪ (ফতুল্লা) আসনে মাওলানা আবদুল জব্বারের ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা, ঢাকা–৫ আসনে প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেনের পোস্টারের ওপর বিএনপি নেতা নবিউল্লাহ নবীর পোস্টার সাঁটা, লক্ষ্মীপুর সদর–৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী রেজাউল করিমের প্রচারণা সামগ্রী ঢেকে রাখা এবং চট্টগ্রাম–৪ আসনে প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরীর পোস্টার বিকৃতি ও ছেঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠে এসেছে।
এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে অনেকেই রাজনৈতিক সহাবস্থানের বিরোধী বলে মনে করছেন। অভিযোগ রয়েছে—দলীয় প্রচারণায় বাধা দেওয়ার কোনো আইনি বা নৈতিক অধিকার কারও নেই। মাঠে নেমে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর এমন আচরণ নির্বাচনকে অশান্তির দিকে ঠেলে দিতে পারে।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেকোনো নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সহনশীলতা, সহাবস্থান এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। পোস্টার ছেঁড়া, প্রতিপক্ষের প্রচারণা সামগ্রী নষ্ট করা বা প্রচারণায় বাধা দেওয়া নির্বাচন আচারবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন।
ভোটারদের মধ্যেও এ নিয়ে বিরক্তি দেখা যাচ্ছে। তাদের মতে, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকতে পারে, কিন্তু সহিংসতা বা দমন–পীড়ন নয়—বরং প্রতিটি দল যেন মুক্তভাবে প্রচারণা চালাতে পারে, সেটাই হওয়া উচিত গণতান্ত্রিক পরিবেশের মূল শর্ত।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, আশু ব্যবস্থা না নিলে নির্বাচনের আগে দেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। নির্বাচনী লড়াই হোক নীতির ওপর, পোস্টার ছেঁড়াছেঁড়ি বা প্রতিপক্ষকে দমন নয়—এটাই এখন সাধারণ নাগরিকদের প্রত্যাশা।
