আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারদের (এসপি) লটারির মাধ্যমে বদলির দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। তাদের মতে, এ পদ্ধতিই সবচেয়ে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য।
বুধবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাতটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সংলাপে অংশ নিয়ে এ দাবি জানান দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে হঠাৎ করে কয়েকজন ডিসি-এসপিকে বদলি করা হয়েছে, যা কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ‘ডিজাইনের’ অংশ বলেই মনে হয়। তিনি বলেন, “লটারির মাধ্যমে বদলি হলে যার যেখানে যাওয়ার তকদির, সেখানেই যাবেন—এ নিয়ে কোনো প্রশ্নও থাকবে না।”
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রতি আস্থা তৈরিতে ইসির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, অতীতের কিছু কমিশন তফসিল ঘোষণার পর একযোগে সব ডিসি-এসপি বদলির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং তা নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠেনি। বর্তমান বদলির ধরণকে তিনি ‘পরিকল্পিত’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
গণভোট–নির্বাচন একসাথে: আচরণবিধিতে অস্পষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন
জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হলেও আচরণবিধিতে তার কোনো উল্লেখ নেই—এ বিষয়টি ইসির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন জামায়াত নেতারা।
প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালটে অংশগ্রহণ এবং এনআইডির বিকল্প হিসেবে পাসপোর্ট দিয়ে ভোটার নিবন্ধনের সুযোগ রাখার দাবি জানান তারা।
এ ছাড়া—
লাউডস্পিকার ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা পুনর্বিবেচনা,
ভোটার তালিকায় ছবির মান উন্নয়ন,
প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে অন্তত পাঁচজন সেনাসদস্য মোতায়েন—
ইত্যাদি প্রস্তাবও তুলে ধরে জামায়াত।
আচরণবিধির অসংগতি তুলে ধরলেন শিশির মনির
সংলাপে অংশ নেওয়া সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও জামায়াত প্রতিনিধি শিশির মনির আচরণবিধির কয়েকটি দিক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
১. পোস্টার ব্যবহারে ‘দ্বৈত নীতি’
তিনি জানান, ৭(ক) ধারায় পোস্টার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ৭(ঘ) ধারায় পোস্টার অপসারণে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে—যা পরস্পরবিরোধী।
২. ইশতেহার পাঠ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব
সব প্রার্থীর উপস্থিতিতে এক মঞ্চে ইশতেহার পাঠে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ‘করতে পারবেন’ শব্দটি ঐচ্ছিক না রেখে বাধ্যতামূলক করার দাবি জানান তিনি।
৩. অভিযোগ নিষ্পত্তিতে সময়সীমা নির্ধারণ
নির্বাচন-পূর্ব অনিয়ম সম্পর্কিত অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকা জরুরি বলে মত দেন শিশির মনির। তিনি বলেন, সময়সীমা না থাকলে অভিযোগ ঝুলে থাকার ঝুঁকি থাকে।
৪. শাস্তি আরোপের এখতিয়ার অস্পষ্ট
আচরণবিধি লঙ্ঘনে শাস্তির বিধান থাকলেও কে শাস্তি দেবেন, তা স্পষ্ট উল্লেখ নেই—এ নিয়ে অসন্তোষ জানান তিনি।
এ ছাড়া প্রার্থীর বদলে রাজনৈতিক দলকে শাস্তি দেওয়ার বিধানেও অসংগতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেন।
