খুলনায় ছাত্র গণজমায়েতে বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরে যারা রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলেন, আগামী নির্বাচনে জাতি তাদের লাল কার্ড দেখাবে। তার মতে, শাসন, অর্থনীতি, বিচারব্যবস্থা, কৃষি, শিক্ষা ও সংস্কৃতিসহ কোনো ক্ষেত্রেই জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
শুক্রবার সকালে খুলনা-৫ আসনের ডুমুরিয়া উপজেলার শাহপুর আন্দুলিয়া ফুটবল মাঠে ডুমুরিয়া উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত ছাত্র গণজমায়েতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আমির মাওলানা মোক্তার হুসাইন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম ও জাকসু জিএস মাজহারুল ইসলাম।
মিয়া পরওয়ার বলেন, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও মাঠদখল, বাজার–ঘাট নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি—সবই আগের মতো চলছে। জনগণ এখন পরিবর্তন চায়। দুর্নীতি ও দখলদারিত্ব থেকে মুক্ত হয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা সময়ের দাবি।
তিনি জামায়াত আমির ড. শফিকুর রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে জামায়াতের এমপি–মন্ত্রীরা কোনো ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি, প্লট বা বিশেষ সুবিধা নেবেন না। এ প্রতিশ্রুতি অন্য দল দিতে পারে না।
হিন্দু সম্প্রদায়কে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ভয় পাওয়ার কিছু নেই—নৌকা, ধানের শীষ, লাঙল যেমন ভোট দেওয়ার অধিকার রয়েছে, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার অধিকারও সমানভাবে আছে। ভীতি সৃষ্টি করে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা সামাজিক সহাবস্থান নষ্ট করে।
প্রবাসী শ্রমিকদের সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, পাসপোর্ট ও রেজিস্ট্রেশন জটিলতাসহ নানা হয়রানি বন্ধে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন প্রয়োজন। ক্ষমতায় গেলে প্রবাসীদের ভোটাধিকারসহ প্রশাসনিক জটিলতা সমাধানে কাজ করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
এ সময় তিনি প্রশাসনের কর্মকর্তা—ডিসি, এসপি, ইউএনওসহ সংশ্লিষ্টদের নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দিনের ভোট রাতে হলে দেশের বড় ক্ষতি হয়; এবার কেউ নির্বাচনী অনিয়মে জড়ালে দায় এড়ানো যাবে না।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, একটি দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে দুই শতাধিক নেতাকর্মী নিহত হয়েছে। যে দল নিজেদেরই নিরাপত্তা দিতে পারে না, সেই দলের কাছে দেশ নিরাপদ নয়। তিনি বলেন, আগামীর বিপ্লব হবে ইনসাফের—এজন্য দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে ডুমুরিয়া হিন্দু কমিটির সভাপতি কৃষ্ণ নন্দী, খুলনা জেলা আমির মাওলানা এমরান হুসাইন, খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, খুলনা মহানগরী ছাত্রশিবির সভাপতি আরাফাত হোসেন মিলনসহ অনেকে বক্তব্য দেন।
