ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ইতোমধ্যে ২৩৭ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে। তবে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা মিত্র দলগুলোর জন্য এখনো কোনো আসন চূড়ান্ত না হওয়ায় তাদের মধ্যে উদ্বেগ, অনাস্থা ও তৃণমূলে বিভক্তি বাড়ছে।
মিত্র দলের অভিযোগ—আসন নিশ্চিত না হওয়ায় তারা প্রচারণায় পিছিয়ে পড়ছে এবং স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। তাদের মতে, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তফসিল ঘোষণার পর প্রস্তুতির সময় খুবই কম থাকবে; তাই এখনই আসন বণ্টন চূড়ান্ত না হলে মাঠের পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠবে।
আরপিও সংশোধন জটিলতা বাড়িয়েছে
সূত্র জানায়, আরপিও সংশোধনের ফলে জোট করলেও প্রতিটি দলকে নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে। ছোট দলগুলোর পক্ষে নিজ প্রতীকে জেতা কঠিন হওয়ায় মিত্রদের দাবি অনুযায়ী আসন পুনর্বিন্যাসে বিএনপি কিছুটা সংকটে রয়েছে। দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়া শেষ হলেও এই জটিলতার কারণে মিত্রদের আসন ঘোষণা দেরি হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে তাদের জয়ের সম্ভাবনা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
মাঠে বিএনপির সক্রিয়তা মিত্রদের উদ্বিগ্ন করছে
মিত্র দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের অভিযোগ—একই আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রতিদিন প্রচারণা ও শোডাউন চালাচ্ছেন। ফলে জোটপ্রার্থীদের অবস্থান দুর্বল হচ্ছে ও ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। অবস্থার দ্রুত সমাধান না হলে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিএনপির সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক
আসন সমঝোতা নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের কয়েকটি দলের নেতারা অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেন। তারা বলেন, ২০১৮ সালে যেভাবে আসন ছাড় দেওয়া হয়েছিল, এবারও দ্রুত তা ঘোষণা করা উচিত। কারণ, বিলম্বের কারণে জোটপ্রার্থীরা পূর্ণমাত্রায় প্রচারণা শুরু করতে পারছেন না এবং বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও মাঠে সক্রিয় থাকায় পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে।
শিগগির সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। যুগপৎ আন্দোলনের মিত্ররাও তার সঙ্গে বৈঠকের অপেক্ষায় আছে। বিএনপি সূত্র বলছে, বৈঠক শিগগির অনুষ্ঠিত হবে এবং এরপর কোন শরিক কোন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে তা দ্রুত জানানো হবে। এবার শরিকদের মোট ২৫–৩০টি আসন ছাড় দেওয়া হতে পারে।
স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। তার দাবি, মিত্রদের নিয়ে চিন্তার কিছু নেই—রাজনৈতিক অবস্থান ও অবদান বিবেচনায় দ্রুত আসন ছাড় ঘোষণা করা হবে।
মিত্রদের প্রার্থী তালিকা জমা
বিএনপির চাহিদা অনুযায়ী মিত্রদের বেশিরভাগ দল প্রার্থী তালিকা জমা দিয়েছে। মোট ১৬৮ জনের তালিকা জমা পড়েছে। এর মধ্যে—
গণতন্ত্র মঞ্চ (রাষ্ট্র সংস্কার ছাড়া) ৪০ জন
১২ দলীয় জোট ২১ জন
জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট ৯ জন
গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য ১৯ জন
এলডিপি ১৩ জন
গণঅধিকার পরিষদ ২৫ জন
গণফোরাম ১৬ জন
এনডিএম ১০ জন
বিএনপি (বিজেপি) ৫ জন
লেবার পার্টি ৬ জন
বিপিপি ৪ জন
তবে তালিকা নেওয়ার পরও বিএনপি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো শরিকের সঙ্গে বসেনি।
মিত্রদের ক্ষোভ ও সতর্কবার্তা
ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ (এনপিপি): দ্রুত মূল্যায়ন ও আসন ঘোষণা দাবি।
সাইফুল হক (গণতন্ত্র মঞ্চ/বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি): বিলম্বে জোটের মধ্যে মানসিক দূরত্ব বাড়ছে, যা রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
শাহাদাত হোসেন সেলিম (বিএলডিপি): প্রার্থী ঘোষণায় ধীরগতি মিত্রদের বিব্রত করছে।
মুস্তাফিজুর রহমান ইরান (লেবার পার্টি): প্রার্থী ঘোষণায় দেরিতে তৃণমূলে বিভ্রান্তি ও বাধা বাড়ছে; একই আসনে বিএনপি প্রার্থী ও জোটপ্রার্থী কার্যত মুখোমুখি অবস্থানে পড়ছে।
মিত্রদের অভিযোগ—তাদের নাম ঘোষণা না হওয়ায় তারা প্রচারণা শুরু করতে পারছেন না, অথচ বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিয়মিত মাঠে সক্রিয়। এতে উত্তেজনা ও ভোটার বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
