মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে মসজিদে নামাজ চলাকালীন সময়ে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যাতে কয়েকজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার দেউলভোগ দয়হাটা বায়তুল আমান জামে মসজিদের ভেতরে এই সংঘর্ষ ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আওলাদ হোসেন উজ্জ্বলের মৃত শ্বশুরের জানাজায় যোগ দিতে কেন্দ্রীয় বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু দয়হাটা এলাকায় আসেন। এ সময় মুন্সিগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শেখ আব্দুল্লাহর সমর্থক ও উপজেলা যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা তরিকুল ইসলাম তার পথরোধ করেন।
পরে জানাজা শেষে মীর সরাফত আলী সপু নামাজ পড়তে দয়হাটা বায়তুল আমান জামে মসজিদে প্রবেশ করলে তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে তার অনুসারীরা সপুর সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময়ও হামলার পুনরাবৃত্তি হয়। এতে সপুর দুই সমর্থকসহ অন্তত কয়েকজন আহত হন। আহতরা—মমিনুল ইসলাম ফাহিম (২০) ও আব্দুর রহিম (৪৭)—চিকিৎসা নেন শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মনিরা আক্তার জানান, দুজনের মাথায় আঘাত ছিল, তবে গুরুতর ক্ষত না থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
আহতদের অভিযোগ, হামলার পেছনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শেখ মো. আব্দুল্লাহর সমর্থকরাই জড়িত। তবে শেখ মো. আব্দুল্লাহ বলেন, তিনি মিটিংয়ে ছিলেন এবং বিষয়টি বিস্তারিত জানেন না। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম খান দাবি করেন, মোটরসাইকেল আটকে যাওয়াকে কেন্দ্র করে বাগ্বিতণ্ডা থেকে ঘটনা শুরু হয়। তিনি আরও জানান, তরিকুল বহিষ্কৃত নেতা এবং তাদের দলের কেউ নন।
ঘটনার পর পুলিশ মসজিদ এলাকায় অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে। শ্রীনগর থানার ওসি নাজমুল হুদা খান বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। তিনি আরও জানান, মুন্সিগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে উত্তেজনা চলছে, এই হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
