বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এখনো সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের মতে, তার শারীরিক অবস্থায় সামান্য উন্নতি দেখা দিলেও তা স্থিতিশীল নয়। এ অবস্থায় বিদেশে উন্নত চিকিৎসার বিষয়ে পরিবারের সব প্রস্তুতি থাকলেও চিকিৎসক বোর্ড বলেছেন, এ মুহূর্তে তাকে বিদেশে নেওয়ার মতো স্থিতি নেই। তবে অবস্থা স্থিতিশীল হলেই লন্ডন বা বিকল্প অন্য দেশে পাঠানো হবে।
লন্ডনকে অগ্রাধিকার—প্রস্তুত এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ও ভিসা
বিএনপি সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ক্ষেত্রে লন্ডনই তাদের প্রথম পছন্দ। পাশাপাশি কয়েকটি দেশকে বিকল্প হিসেবে বিবেচনায় রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য যাত্রার কথা বিবেচনা করে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স, ভিসা এবং যোগাযোগের সব প্রস্তুতি আগেই সম্পন্ন করা হয়েছে।
চীনের চিকিৎসক পাঠানোর আগ্রহ
খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় সহায়তার জন্য চীন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক টিম পাঠাতে আগ্রহ জানিয়েছে। দেশের প্রবীণ এই নেত্রীর অসুস্থতায় সারাদেশজুড়েই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মসজিদে মসজিদে দোয়া ও কোরআনখানি, অন্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সুস্থতা কামনায় হাজারো পোস্ট দেখা যাচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা ও নেতাদের দোয়ার অনুরোধ
‘জাতীয় ঐক্যের প্রতীক’ হিসেবে খ্যাত খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। লন্ডন থেকে তার বড় ছেলে তারেক রহমান সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে চিকিৎসার খোঁজ নিচ্ছেন। বিএনপি ও জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানানো হয়েছে।
হাসপাতালের বর্তমান অবস্থা
২৩ নভেম্বর শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসে সংক্রমণ নিয়ে খালেদা জিয়া রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে নিউমোনিয়া ধরা পড়ে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কিডনি, লিভার, ডায়াবেটিস ও আর্থ্রাইটিসের পুরোনো জটিলতা—একটি রোগের চিকিৎসা অন্যটির ওপর প্রভাব ফেলছে। অবনতি হলে তাকে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।
অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে মেডিকেল বোর্ড চিকিৎসা দিচ্ছেন। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা ভার্চুয়ালি যুক্ত রয়েছেন। লন্ডন থেকে ডা. জুবাইদা রহমান, যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস হাসপাতালের বিশেষজ্ঞরাও নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন।
বিএনপির অভিযোগ
বিএনপি অভিযোগ করেছে, দীর্ঘদিনের কারাবাস ও ‘স্লো পয়জনিং’-এর কারণেই খালেদা জিয়া আজ মৃত্যুঝুঁকিতে। তাদের দাবি—ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থার সময়ই তাকে মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতেলে নেতাদের ভিড়
তার অসুস্থতার খবরে অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক উপদেষ্টা, বিএনপির শীর্ষ নেতারা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতারা এভারকেয়ার হাসপাতালে ছুটে যাচ্ছেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ, স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলসহ অনেকে তার খোঁজ নিয়েছেন।
বিএনপির সিনিয়র নেতা—মির্জা ফখরুল, আমীর খসরু, রিজভী, আবদুল মোনায়েম মুন্না—ঘন ঘন হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন এবং পরিবারের পক্ষ থেকে শর্মিলা রহমান।
দেশজুড়ে দোয়া মাহফিল
শুক্রবার বিএনপির উদ্যোগে সারা দেশে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। নয়াপল্টন জামে মসজিদেও বিশেষ দোয়া মাহফিল হয়, যেখানে মির্জা ফখরুল চিকিৎসকদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান—খালেদা জিয়ার অবস্থা “অত্যন্ত সংকটাপন্ন”।
রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি জনপ্রিয় ইসলামিক আলোচক মাওলানা আজহারী, তানজীম আহমেদ সোহেল তাজ, ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েমসহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং হাজারো সাধারণ মানুষ তার সুস্থতা কামনায় সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দিয়েছে।
