৫ দফা দাবিতে ৮ দলের উদ্যোগে ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৩০ নভেম্বর) দুপুর ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত আয়োজিত এই সমাবেশে কেন্দ্রীয় নেতারা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি ও গণভোট আয়োজনসহ মূল ৫ দফা দাবি তুলে ধরেন।
সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, আগামীর সংসদ হবে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত কুরআনের সংসদ। তিনি দাবি করেন, আগামীতে সচিবালয়, সংসদ ও বিচারালয় কুরআনের বিধান অনুযায়ী পরিচালিত হবে। অতীতে চাঁদাবাজরা যেভাবে কাজ করেছে, ভবিষ্যতে তা আর চলতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ৮ দলের জোট দেশে নতুন জাগরণ তৈরি করেছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে অবশ্যই গণভোট আয়োজন করতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের একইদিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবে। তার দাবি, জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোট চায়, তাই গণভোট আগেই হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এবারের সংগ্রাম চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। ৮ দলের জোট বিস্তৃত হচ্ছে—অনেক দল যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলেও তিনি জানান।
সমাবেশের সভাপতি রফিকুল ইসলাম খান বলেন, জুলাই বিপ্লব কোনো একক দলের আন্দোলন নয়। তাই নির্বাচন ও গণভোটের সময়সূচি নির্ধারণে নিরপেক্ষ অবস্থান নেওয়ার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনে ৮ দলের একজন প্রার্থী থাকবে এবং সবাই তাকে সমর্থন দেবে।
জাগপার সহ সভাপতি রাশেদ প্রধান বলেন, নির্বাচনী মাঠে বুলেট ছোড়া হচ্ছে, কিন্তু জনগণ ব্যালটে তার জবাব দেবে। তিনি দাবি করেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট মানে নতুন রাষ্ট্র, নতুন শাসনব্যবস্থা এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ।
সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, নির্বাচনের আগে গণভোট অবশ্যই দিতে হবে। একইদিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন সম্ভব নয় এবং এতে প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখতে পারবে না।
বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির সভাপতি এডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান বলেন, জনগণ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ পক্ষে রায় দেবে। ইসলামের পথে, কুরআনের পথে দেশ পরিচালনার প্রত্যাশা জনগণের মধ্যে আরও জোরালো হয়েছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন্দ বলেন, দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। তিনি চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত কার্যকর পার্লামেন্ট গঠনের আহ্বান জানান।
নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল মাজেদ আতহারি বলেন, জুলাই সনদ কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম আরও তীব্র হবে বলেও তিনি জানান।
সমাবেশটি পরিচালনা করেন জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহানগরীর সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মণ্ডল ও মুফতি ইমরান। সমাবেশে বিভিন্ন ইসলামী ও জাতীয়তাবাদী দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।
