ইরানের সঙ্গে সংঘাতের পাঁচ মাস পর ইসরায়েল একযোগে তিনটি বড় অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখে পড়েছে—পুনর্গঠন স্থবিরতা, বাজেট কাটছাঁট নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক এবং দ্রুত বেড়ে চলা মেধাপাচার। পরিস্থিতি দেশটির দীর্ঘমেয়াদি অর্থনীতি, সামাজিক সংহতি ও শাসন ব্যবস্থার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইসরায়েলে ধ্বংস হওয়া বাড়িঘর পুনর্নির্মাণের জন্য সরকার যে পুনর্গঠন পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল, তা কার্যত থেমে গেছে। ক্ষমতাসীন জোটের ভেতরে বিশেষ করে অতি-অর্থডক্স দলগুলোর আপত্তির কারণে এসব প্রকল্প অনুমোদন পাচ্ছে না। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, পুনর্গঠন নয়—বরং লুটপাট চলছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ক্ষতিপূরণের আবেদন করেছেন। আনুমানিক মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.৫৩ বিলিয়ন ডলার। রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটতে না থাকায় পুনর্গঠন পুরোপুরি স্থবির হয়ে আছে।
এদিকে পার্লামেন্টে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে মন্ত্রী মাই গোলানের একটি বাজেট প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে, যেখানে তিনি ফিলিস্তিনি নাগরিকদের শিক্ষা, অবকাঠামো ও আবাসন উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ ৯১৮ মিলিয়ন ডলারের কর্মসূচি বাতিল করতে চান। বিরোধীরা একে “সমতার অধিকারে আঘাত” ও “প্রকাশ্যে অর্থ লুট” বলে অভিযোগ করেছে। বিতর্কের কারণে বাজেট পাসও অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে।
রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দেশ ছাড়ছে শিক্ষিত তরুণ ও পেশাজীবীরা। অক্টোবর ২০২৩ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ ইসরায়েলি দেশ ত্যাগ করেছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন প্রায় ৯০০ চিকিৎসক, ১৯ হাজারের বেশি ডিগ্রিধারী পেশাজীবী ও প্রায় ৮ হাজার প্রযুক্তি কর্মী। শুধু কর রাজস্বেই ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৪৫৯ মিলিয়ন ডলার। ফলে ইসরায়েলের শ্রমবাজার, অর্থনীতি ও প্রযুক্তি খাতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
একটি সংকটের সমাধান করতে না করতেই আরেকটি সংকট গভীরতর হয়ে ওঠায় ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
