মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান।
তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ একটি সুপরিকল্পিত মিশন নিয়েছে, যার লক্ষ্য আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিতে যাওয়া অন্তত ৫০ জন সংসদ সদস্য প্রার্থীকে হত্যা করা। তার দাবি, এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও বিপ্লবী নেতা শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। রাশেদ খান বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ও ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার একজন নেতাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় গুলি করা হয়েছে, অথচ এখনো পর্যন্ত প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
তিনি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, অপরাধীদের চিহ্নিত করতে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণার অর্থ হলো রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ, র্যাব ও যৌথ বাহিনীর কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠে এসেছে। তার মতে, সরকারের ভেতরে ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর এবং বাহিনীতে ফ্যাসিবাদের দোসররা এখনো সক্রিয় রয়েছে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ ঘোষণা করা জরুরি।
রাশেদ খান আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের অযোগ্যতা, অদক্ষতা এবং উপদেষ্টা পরিষদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সংস্কারের নামে জনগণকে যে স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল, বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও কার্যকর রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সেই লক্ষ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, যে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের লক্ষ্য সামনে রেখে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল, এত বছর পেরিয়েও সেই নতুন রাষ্ট্র এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। স্বাধীনতার পর যারা একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, আজও সেই একই আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণ রয়ে গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
