হাদি ইস্যুতে শহীদ মিনারে আয়োজিত সর্বদলীয় প্রতিরোধ সভায় প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চের উদ্যোগে আয়োজিত ওই সমাবেশে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদসহ আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা অংশ নিলেও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতি নিয়ে কৌতূহল দেখা দেয়।
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ জাবের জানান, বিএনপি সরাসরি উপস্থিত না থাকলেও তাদের আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছে। তবে সমাবেশে বিএনপির কোনো প্রতিনিধি না থাকায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সাবেক উপদেষ্টা ও দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। সভায় বক্তব্য দেন সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও এনসিপির নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ। মাহফুজ আলম তার বক্তব্যে কঠোর ভাষা ব্যবহার করে বলেন, ভবিষ্যতে আর কোনো সহনশীলতা দেখানো হবে না। এনসিপির নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ ভারতের ‘সেভেন সিস্টার্স’ অঞ্চল নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের কারণে বিতর্কে আসেন।
বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে দলটির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য জানান, রাজনৈতিকভাবে উত্তেজনাকর বা উসকানিমূলক পরিস্থিতিতে জড়ানো এড়াতেই তারা সশরীরে সভায় যাননি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর হাসপাতালে গিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস যে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছিলেন, সেটিও দলটির সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। এ ছাড়া সভায় বিতর্কিত বক্তব্য আসতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেও বিএনপি সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বলে মত বিশ্লেষকদের।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপি কোনো অস্থির পরিস্থিতি চায় না, যা নির্বাচনের পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে। একই মত দেন আরেক বিশ্লেষক অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান। তার মতে, সভায় যে ধরনের বক্তব্য এসেছে, তাতে বিএনপি উপস্থিত থাকলে তাদেরও দায় নিতে হতো—এমন ধারণা থেকেই দলটি সরাসরি অংশ নেয়নি।
তবে সভা চলাকালে বিএনপির পক্ষ থেকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাদের ফোন করে সংহতির কথা জানানো হয়। রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, সরকার হাদি ইস্যুতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে—এমন মূল্যায়ন এবং নির্বাচনী পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখার কৌশল থেকেই বিএনপি এ কর্মসূচিতে সশরীরে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
