প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধাদের জীবন আজ হুমকির মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন খেলাফত মজলিসের নেতারা।
দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং অপরাধীদের ওপর কার্যকর গোয়েন্দা নজরদারির অভাবে ফ্যাসিবাদী সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ফলে জুলাই আন্দোলনের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা চরম ঝুঁকিতে পড়েছে।
নেতারা অভিযোগ করেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বানচাল করতে খুনিচক্র মাঠে নেমেছে। অথচ এসব ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে না পারাকে তারা চরম ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
খেলাফত মজলিসের নেতারা বলেন, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে অবিলম্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করতে হবে। খুনি ও ফ্যাসিবাদী অপশক্তির সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করা জরুরি। একই সঙ্গে উৎসবমুখর নির্বাচনি পরিবেশ তৈরিতে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নির্মূলের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
এ সময় নির্বাচনকালীন ওয়াজ মাহফিলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের যে পরিকল্পনার কথা শোনা যাচ্ছে, তার তীব্র সমালোচনা করে খেলাফত মজলিস নেতারা এ ধরনের সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান।
গত বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর পল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন। মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের সঞ্চালনায় বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, অধ্যাপক মুহাম্মদ খালেকুজ্জামান, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, অধ্যাপক আবদুল জলিলসহ অন্য নেতারা।
বৈঠকে সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা শরীফ ওসমান হাদির দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।
