রাজধানীর হাজারীবাগ থানাধীন একটি ছাত্রী হোস্টেল থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী জান্নাত আরা রুমীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে জিগাতলা পুরাতন কাঁচাবাজার রোডে অবস্থিত জান্নাতী ছাত্রী হোস্টেলের পঞ্চম তলা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ধানমন্ডি থানা সমন্বয় কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী ছিলেন।
রুমীর মৃত্যুর পর সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ক্রমাগত হুমকি ও সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছিলেন রুমী এবং এসব বিষয়ে থানায় অভিযোগ জানালেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেন, তথ্যপ্রমাণসহ অভিযুক্তদের ফেসবুক আইডি ও ফোন নম্বর পুলিশের কাছে দেওয়া হলেও একজনের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তার ভাষায়, রুমীর ঝুলন্ত লাশ শুধু একটি ব্যক্তিগত মৃত্যুই নয়, বরং এটি পুরো দেশের জন্য একটি ভয়াবহ বার্তা বহন করছে।
ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ হাসান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছিলেন রুমী। নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি করলেও কোনো প্রতিকার পাননি তিনি।
এদিকে ছাত্র মৈত্রীর সাবেক সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসু রুমীর মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলে তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্যসচিব তারেক রেজা ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে দাবি করেন, রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে রুমী এক মাস ধরে হত্যা ও ধর্ষণের হুমকির মুখে ছিলেন এবং সেই মানসিক চাপ থেকেই তিনি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক তারেকুল ইসলাম বলেন, তারা রুমীর মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে মেনে নিতে রাজি নন এবং এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেন।
রুমীর স্বজনরা জানান, হতাশা থেকেই এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে, তবে তারা মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
