পত্রিকা অফিসে হামলার ঘটনাকে কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয় বলে মত প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট মহল। তাদের অভিযোগ, এ ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ডের পেছনে শাহবাগী গোষ্ঠীর ভূমিকা রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, যেদিন শাহবাগী দুর্বৃত্তরা প্রকাশ্যে উল্লাস করেছিল, সেদিনই এ ধরনের হামলার পক্ষে বৈধতা তৈরিতে ভূমিকা রাখে একটি ভারতীয় দালাল গোষ্ঠী।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালের ১৩ ডিসেম্বর রাজধানীতে দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ছায়া সংগঠন হিসেবে পরিচিত ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’-এর কর্মীরা ওই দিন পত্রিকার কার্যালয়ে ঢুকে ব্যাপক হামলা ও ভাঙচুর চালায়। একপর্যায়ে তারা কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে পত্রিকাটির সম্পাদককে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
সেদিনের ঘটনায় কেবল ভাঙচুরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি হামলাকারীরা—অভিযোগ রয়েছে, দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদককে দীর্ঘ এক বছর আটক করে রাখা হয়েছিল। একই ঘটনায় পত্রিকার কার্যালয় থেকে প্রবীণ সম্পাদক ও লেখক আবুল আসাদকেও তুলে নিয়ে যাওয়ার কথা জানানো হয়।
গ্রেপ্তারের বিষয়ে তৎকালীন তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, “আমরা দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার সম্পাদককে নিয়ে এসেছি, কারণ তাঁর কাছে কিছু বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে।” এরপর আবুল আসাদ দীর্ঘ এক বছর কারাবন্দী ছিলেন।
পরবর্তীতে হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর ২০২০ সালের ৭ ডিসেম্বর রাতে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে তিনি মুক্তি লাভ করেন। ঘটনাটি নিয়ে তখন দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয় এবং সাংবাদিক মহল গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে।
