মাদারীপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা শাজাহান খানের বাড়ি ও তার ভাইদের মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পাহারার অভিযোগে যুবদল নেতা ফারুক হোসেন ব্যাপারীকে কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিনি মাদারীপুর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক।
রোববার রাতে যুবদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্বাক্ষরিত নোটিশে তিন দিনের মধ্যে লিখিতভাবে জবাব দিতে বলা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির ওপর হামলার প্রতিবাদে শনিবার মাদারীপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাজাহান খানের ভাইদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে কর্মসূচির ডাক দেওয়া হলে তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। বর্তমানে শাজাহান খান ও তার ছেলে আসিবুর রহমান খান কারাগারে রয়েছেন। তার ভাইয়েরা পলাতক থাকলেও মাদারীপুরে পরিবহন, আবাসিক হোটেল ও পেট্রোল পাম্পসহ তাদের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সচল রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে শনিবার সকালে যুবদল নেতা ফারুক হোসেন ব্যাপারীর নেতৃত্বে অন্তত ৪০–৫০ জন কর্মী শাজাহান খানের ভাই হাফিজুর রহমান জাচ্চু খানের মালিকানাধীন একটি পেট্রোল পাম্পে অবস্থান নেন। এ সংক্রান্ত ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক নেতা দাবি করেন, আওয়ামী লীগ আমলে ফারুক ব্যাপারী শাজাহান খানের পরিবারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পাহারার দায়িত্ব নিয়েছেন।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য কে এম তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ফারুক ব্যাপারীর কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগের একজন নেতার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পাহারা দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ কারণেই কেন্দ্র থেকে তাকে শোকজ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে ফারুক হোসেন ব্যাপারী বলেন, নাশকতার আশঙ্কায় পুলিশ ও প্রশাসনের অনুরোধে তারা মাঠে ছিলেন। নির্দিষ্টভাবে কোনো ব্যক্তির ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পাহারা দেওয়া হয়নি। তৃতীয় পক্ষ যাতে সহিংসতা ঘটাতে না পারে, সেটিই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। বিষয়টি ভুলভাবে কেন্দ্রে উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
