ইনকিলাব মঞ্চের কার্যক্রম শুরুর অনেকদিন পর থেকে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই নিয়মিতভাবে ইনকিলাব সেন্টারে এজেন্ট পাঠিয়ে নজরদারি চালিয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির বিভিন্ন বক্তব্য, টক শো ও সাক্ষাৎকার গণমাধ্যমে আলোচনায় আসার পর এবং তিনি আওয়ামী লীগ, সেনাপ্রধান ও ভারতের সমালোচনা শুরু করলে ডিজিএফআই তাকে পর্যবেক্ষণে নেয়।
সূত্র জানায়, শুরুতে হাদি ও ইনকিলাব মঞ্চকে গুরুত্ব না দিলেও পরবর্তীতে তাকে ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে সরাসরি নজরদারি শুরু হয়। এ উদ্দেশ্যে সিভিল পোশাকে এজেন্টদের ইনকিলাব সেন্টারে পাঠানো হতো। অভিযোগ রয়েছে, ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অবস্থানরত ডিজিএফআই এজেন্টদের মাধ্যমেই এই নজরদারি পরিচালিত হয়। হোটেলটি থেকে ইনকিলাব সেন্টারে যাতায়াত সহজ হওয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে পর্যবেক্ষণের জন্য এটিকে কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
নজরদারির অংশ হিসেবে ইনকিলাব সেন্টারে কী ধরনের বই রয়েছে, কারা সেখানে আসেন, কী কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং কী ধরনের রাজনৈতিক ও আদর্শিক আলোচনা হয়—এসব বিষয় বিস্তারিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। সূত্রের ভাষ্যমতে, সেখানে ভারতীয় আধিপত্যবাদ, আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও বিপ্লব বিষয়ক বই বেশি থাকায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, পর্যবেক্ষণের তথ্য নিয়মিতভাবে উচ্চপর্যায়ে পাঠানো হতো এবং এর একটি অংশ ভারতের কিছু রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিকদের কাছেও পৌঁছায়। এ প্রসঙ্গে ভারতীয় পত্রিকা দ্য হিন্দুতে ইনকিলাব সেন্টারের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, হাদির হত্যার পর ওই প্রতিবেদনগুলো অনলাইন থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
সূত্রের দাবি, প্রায় ২০ থেকে ২৫ দিন পর্যবেক্ষণের পর চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ওসমান হাদী ও ইনকিলাব মঞ্চকে ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে ‘হুমকি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এরপর ধাপে ধাপে তাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় অস্ত্র মামলায় কারাবন্দি ফয়সালকে দুই দফায় জামিনে মুক্ত করা হয় এবং বিপুল অর্থ ব্যয় করে তাকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ফয়সালকে পালিয়ে যাওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। চুল কেটে, কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করে নিজের চেহারা পরিবর্তন করে তিনি হাদির ঘনিষ্ঠ হন এবং প্রায় ১০ থেকে ১৫ দিন একসঙ্গে চলাফেরা ও নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে বিশ্বাস অর্জন করেন। এরপরই প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
এছাড়া অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর বিচার প্রক্রিয়া ভিন্নখাতে নিতে এবং বিষয়টি ধামাচাপা দিতে আইন, আদালত ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার জন্য পৃথক একটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি সংস্থা বা ডিজিএফআইয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
