শহীদ শরিফ ওসমান হাদির পরিবারের উদ্দেশে আবেগঘন আহ্বান জানিয়েছেন রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার। আগামীকাল মনোনয়নপত্র সংগ্রহের শেষ দিনের প্রাক্কালে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি হাদির পরিবারকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান।
বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ হাদির পরিবার ইতোমধ্যে জানিয়েছে যে পরিবারের কেউ নির্বাচনে অংশ নেবেন না। তবে তার মতে, হাজার হাজার মানুষ চান শহীদ হাদির রক্ত, শক্তি, বিপ্লব ও ইনসাফের বার্তা সংসদে প্রতিফলিত হোক। তিনি বলেন, গত তিন দিন হাদি চত্বরে অবস্থানকালে অসংখ্য মা-বোনের কান্না, মানুষের আকুতি ও দোয়ার সাক্ষী হয়েছেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আম্মার জানান, তিনি কখনো ইনকিলাব মঞ্চের আনুষ্ঠানিক সদস্য না হলেও শহীদ হাদির ইনসাফের লড়াইয়ের স্বার্থে তাদের নেতৃত্ব মেনে চলেছেন এবং সংগঠনের অবস্থানের বাইরে গিয়ে কোনো বক্তব্য দেননি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, শহীদ হাদির বিচার যেমন প্রয়োজন, তেমনি হাদির রেখে যাওয়া রাজনৈতিক ও নৈতিক আমানত উপেক্ষা করা যায় কি না।
তিনি বলেন, শহীদ হাদি ঢাকা-০৮ আসন থেকে সংসদে গিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কণ্ঠস্বর হতে চেয়েছিলেন। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা তার সহযোদ্ধা ও উত্তরাধিকারীদের দায়িত্ব। অন্যথায়, নির্বাচনের পর পরিকল্পিতভাবে শহীদ হাদির নাম ও আদর্শকে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে মুছে ফেলার চেষ্টা হবে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শহীদ হাদির অনুপস্থিতিতে তার ইনকিলাব মঞ্চ ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগ দুর্বল হয়ে পড়তে পারে এবং হাদির মতো শক্তিশালী রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক নেতৃত্বের অভাব স্পষ্ট হবে। তাই শহীদ হাদির আদর্শ বাঁচিয়ে রাখতে, এমনকি পাঁচশ ভোটের জন্য হলেও নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, হাদির মাথায় গুলি ঢুকলেও তিনি এখন মানুষের চিন্তা, চেতনা ও হৃদয়ে অবস্থান করছেন। তিনি পরিবারের সদস্যদের—বিশেষ করে ওমর, মাসুমা, আবদুল্লাহ আল জাবের ও ফাতিমা তাসনিম জুমাকে—আরও একবার ভেবে দেখার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, জনগণ সংসদে শহীদ হাদির ইনসাফের পতাকা দেখতে চায়।
