রাষ্ট্রীয় শোকের গাম্ভীর্য আর পুলিশের কঠোর নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই শুরু হলো ইংরেজি নতুন বছর। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশজুড়ে ঘোষিত তিন দিনের শোক এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কড়াকড়ির কারণে রাজধানীতে নিস্তব্ধ রাতের প্রত্যাশাই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু ঘড়ির কাঁটা রাত ১২টা ছুঁতেই সেই প্রত্যাশা ভেঙে দেয় বাস্তবতা। শোকের আবহ আর প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে আতশবাজি ও ফানুসের আলোয় ঝলমলে হয়ে ওঠে ঢাকার আকাশ।
শোকের কারণে বার ও মদের দোকান বন্ধ ছিল, কোথাও বড় ধরনের কনসার্ট বা প্রকাশ্য আয়োজন দেখা যায়নি। সড়কগুলো তুলনামূলক শান্ত থাকলেও উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে আবাসিক এলাকার ছাদগুলো। গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি, তেজগাঁও, মালিবাগ, মিরপুর ও উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় মধ্যরাতের পর থেকেই আকাশে ছুটে চলে রঙিন আতশবাজি। বিকট শব্দে ফাটতে থাকে পটকা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়—অভিজাত এলাকা থেকে শুরু করে সাধারণ গলিতেও উদযাপনের কমতি ছিল না।
ডিএমপি আগেই গণবিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল, শোক পালন ও জননিরাপত্তার স্বার্থে পটকা, আতশবাজি কিংবা উন্মুক্ত জমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশিও চালানো হয়। পুলিশ প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলেও, অসংখ্য ভবনের ছাদে চলা ব্যক্তিগত আয়োজন থামানো তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। অনেক এলাকায় পুলিশের সাইরেনের শব্দের সঙ্গে পাল্লা দিয়েই শোনা গেছে আতশবাজির বিস্ফোরণ ও উচ্চ শব্দের গান।
এই রাতকে ঘিরে নগরবাসীর প্রতিক্রিয়াও ছিল বিভক্ত। রাজনৈতিক কর্মী ও সচেতন নাগরিকদের একটি বড় অংশ শোকের প্রতি সম্মান জানিয়ে সব ধরনের উৎসব এড়িয়ে চলেন। আবার তরুণদের একটি অংশের যুক্তি ছিল—রাষ্ট্রীয় শোক আলাদা বিষয়, নতুন বছরকে স্বাগত জানানো বা পারিবারিক আনন্দ আয়োজন করায় দোষের কিছু নেই। ফলে অনেক পরিবার ঘরোয়াভাবে কেক কাটা বা ছাদে ছোট পরিসরের আয়োজনের মধ্য দিয়ে সময় কাটায়।
সব মিলিয়ে, সরকারি বিধিনিষেধ আর ব্যক্তিগত আবেগের টানাপড়েনে কাটল ঢাকার নতুন বছরের প্রথম রাত। একদিকে শোকের কালো ছায়া, অন্যদিকে আকাশজুড়ে রঙিন আলোর ঝলক—এই বৈপরীত্যের মধ্য দিয়েই ২০২৬ সালকে বরণ করে নিলো রাজধানী।
