রাজশাহীর পবা উপজেলায় রাস্তার কাজকে কেন্দ্র করে চাঁদা চাওয়ার অভিযোগে যুবদল কর্মীর সঙ্গে বিরোধে বিএনপির এক কর্মী পিটুনির শিকার হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার নওহাটা কলেজ মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত ওই কর্মীর নাম আতাবুর রহমান। তিনি নওহাটা পৌরসভার বাঘাটা মহল্লার বাসিন্দা এবং নওহাটা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র শেখ মকবুল হোসেনের অনুসারী বলে জানা গেছে। ঘটনার পর তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নওহাটা কলেজ মোড় এলাকায় একটি রাস্তার কাজ চলছিল। মূল ঠিকাদারের কাছ থেকে মাটি কাটার কাজ পেয়েছেন স্থানীয় যুবদল কর্মী আজাদ আলী। আজাদের অভিযোগ, কাজ শুরুর দিনই আতাবুর রহমান তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করেন।
আজাদ আলী জানান, কাজ শুরু করার পর আতাবুর রহমান এসে টাকা দাবি করেন এবং না দিলে ভেকু গাড়ি ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেন। এ নিয়ে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে আতাবুরকে মারধর করেন বলে তাঁর দাবি। তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর তিনি ও তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার বিপ্লব হোসেন পবা থানায় গেলে আতাবুরের লোকজন থানার সামনেই তাঁদের ওপর হামলা চালায়।
আজাদ আলীর অভিযোগ, আতাবুর রহমান মাদকের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং গত ৫ আগস্টের পর এলাকায় চাঁদাবাজি করেছেন। বিএনপির ভেতরে কেউ কেউ তাঁকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে আতাবুর রহমানের বক্তব্য জানার জন্য তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। নওহাটা পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, আজাদ যুবদলের কর্মী এবং আতাবুর বিএনপির কর্মী। চাঁদা চাওয়ার অভিযোগ অযৌক্তিক বলেও তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর আতাবুর এলাকায় নানা ধরনের নির্যাতন চালিয়েছেন এবং যাঁরা তাঁকে আশ্রয় দেন, তাঁরা স্বার্থসংশ্লিষ্ট।
পবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল মতিন জানান, এলাকায় মারামারির ঘটনা ঘটেছে। তবে লিখিত অভিযোগ না পাওয়া পর্যন্ত ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
