জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সম্পূর্ণভাবে ডানপন্থি ঘরানার রাজনীতিতে প্রবেশ করছে—এ অভিযোগ তুলে দলটির কেন্দ্রীয় সদস্য ও ফরিদপুরের সমন্বয়ক সৈয়দা নীলিমা দোলা পদত্যাগ করেছেন। তাঁর সঙ্গে এ পর্যন্ত দলটির আরও অন্তত ১৭ জন নেতার পদত্যাগের খবর পাওয়া গেছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের অ্যাকাউন্টে পদত্যাগপত্র প্রকাশ করে তিনি এ তথ্য জানান।
পদত্যাগপত্রে সৈয়দা নীলিমা দোলা বলেন, তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির সব ধরনের দায়িত্ব ও পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। তাঁর মতে, এনসিপির পক্ষে আর মধ্যপন্থী রাজনীতির নতুন পথ তৈরি করা সম্ভব নয়। জুলাই-পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রত্যাশায় তিনি এনসিপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন সিদ্ধান্তে স্পষ্ট হয়েছে যে দলটি পুরোপুরি ডানপন্থি ঘরানায় ঝুঁকে পড়েছে এবং সেই ধারার রাজনীতিকেই পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনকেন্দ্রিক জোট কোনো কৌশলগত জোট নয়। যদি তা হতো, তাহলে এত সংখ্যক নেতাকর্মীর পদত্যাগ ঘটত না। তাঁর দাবি, দলের নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত করে এই জোট গঠন করা হয়েছে এবং মনোনয়ন দেওয়ার নামে প্রতারণা করা হয়েছে।
নিজের পদত্যাগ প্রসঙ্গে দোলা বলেন, ক্ষমতা বা পদ-পদবির অভাবের কারণে তিনি দল ছাড়েননি। বরং তাঁর প্রগতিশীল মানসিকতা ও ব্যক্তিগত পরিচয় এতদিন এনসিপিকে শক্তি জুগিয়েছে। তিনি আরও বলেন, পদত্যাগকারীদের ‘বামপন্থি’ হিসেবে চিহ্নিত করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা চলছে, যাতে জামায়াতের কাছে দলকে আরও সহজে গ্রহণযোগ্য করে তোলা যায়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাহলে কি দলে যারা রয়ে গেছেন, সবাই ডানপন্থি? এনসিপি কি আদৌ একটি সেন্ট্রিস্ট দল?
এনসিপির প্রতি জনতার প্রত্যাশা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষ যে আস্থা ও বিশ্বাস এনসিপির ওপর রেখেছিল, তা গত কয়েক মাসে ভেঙে পড়েছে। আসন্ন সময়ে জনগণ এই ব্যর্থতার জবাব দেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দলের ভেতরে নিজের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে সৈয়দা নীলিমা দোলা বলেন, এনসিপিকে মধ্যপন্থী অবস্থানে রাখার জন্য তিনি নারী, শিশু, শ্রমিক, আদিবাসী, হিজড়া, সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে এক করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নানা অনিয়ম ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে দলটির দেরিতে ও দায়সারা প্রতিক্রিয়া তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
পদত্যাগপত্রের শেষাংশে তিনি বলেন, তাঁর মতো মানুষের বিদায় প্রমাণ করে যে এনসিপির বাইরেও জুলাই আন্দোলনের আরেকটি পক্ষশক্তি রয়েছে। ধর্মীয় রাজনীতিকে সামনে এনে রাজনীতি করার জন্য জুলাই শহীদরা জীবন দেননি—এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশে কোনো ধর্মীয় বিপ্লব বা অভ্যুত্থান ঘটেনি।
