চাঁদাবাজির মামলায় জুলাইযোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভীর বয়স জালিয়াতির অভিযোগে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন আদালত। তদন্তকারী কর্মকর্তা কালিয়াকৈর থানার এসআই মো. ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে এ শোকজ জারি করা হয়।
এসআই ওমর ফারুক এর আগে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জাচাঁদাবাজির মামলায় জুলাইযোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভীর বয়স জালিয়াতির অভিযোগে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন আদালত। তদন্তকারী কর্মকর্তা কালিয়াকৈর থানার এসআই মো. ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে এ শোকজ জারি করা হয়।\nএসআই ওমর ফারুক এর আগে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানিয়েছিলেন, সাংবাদিক নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের দায়ের করা এজাহারের ভিত্তিতেই সুরভীর বয়স উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও ওই এজাহারেও সুরভীর প্রকৃত বয়সের চেয়ে এক বছর বেশি দেখানো হয়েছিল। বাস্তবে সুরভীর বয়স ১৭ বছর হলেও চাঁদাবাজির মামলায় তা ২১ বছর উল্লেখ করে রিমান্ড আবেদন করা হয়।
তদন্তে দেখা গেছে, একই দিনে কালিয়াকৈর থানায় দুটি মামলা দায়ের হয়। একটি হলো সাংবাদিক নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের করা চাঁদাবাজির মামলা (মামলা নম্বর ৩৮) এবং অন্যটি সুরভীর মা ছামিতুন আক্তারের করা ধর্ষণচেষ্টা মামলা (মামলা নম্বর ৪০)। উভয় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন একই ব্যক্তি—এসআই ওমর ফারুক। ধর্ষণচেষ্টা মামলার এজাহারে সুরভীর বয়স ১৭ বছর উল্লেখ থাকলেও তা আমলে নেননি তিনি।
মামলার নথিপত্রে দেখা যায়, দুই মামলার এজাহারেই প্রায় একই ঘটনার বর্ণনা রয়েছে। তবে চাঁদাবাজির মামলায় বয়স বাড়িয়ে উল্লেখ করা হলেও সুরভীর মায়ের দাবি বা জন্মনিবন্ধনের তথ্য গ্রহণ করা হয়নি।
বয়স সংক্রান্ত বিষয়ে পুনরায় জানতে চাইলে এসআই ওমর ফারুক প্রথমে এজাহার অনুযায়ী বয়স লেখার কথা বলেন এবং জন্মনিবন্ধনের কপি পাননি বলে দাবি করেন। পরে এ বিষয়ে তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার নাসির উদ্দিন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, সুরভীর ধর্ষণচেষ্টা মামলার বিষয়টি তিনি আগে জানতেন না। উভয় মামলা দায়েরের পর তিনি থানায় যোগ দিয়েছেন বলেও জানান। বয়স সংক্রান্ত গড়মিল থাকলে বিষয়টি আদালত দেখবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
