যশোরের মণিরামপুরে চরমপন্থী নেতা রানা প্রতাপ বৈরাগী হত্যাকাণ্ডে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পেয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, দুটি চরমপন্থী গ্রুপের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) আবুল বাশার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, রানা প্রতাপ বৈরাগী দীর্ঘদিন ধরে ভারত থেকে নিয়ন্ত্রিত চরমপন্থী গ্রুপ দীপংকের সদস্য ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি চরমপন্থী সংগঠন বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (বিসিপি) একজন ক্যাডার হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে কেশবপুর ও অভয়নগর থানায় হত্যা, ধর্ষণ ও বিস্ফোরক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।
পুলিশ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ২০০৫ সাল থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন রানা প্রতাপ। সে সময় আরেক চরমপন্থী নেতা জিয়াউর রহমান জিয়ার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে প্রায় ৮ থেকে ১০ বছর আগে ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তীতে সহিংস রূপ নেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কিছু আন্তর্জাতিক ও ভারতীয় গণমাধ্যমে রানা প্রতাপ বৈরাগীর পরিচয় তুলে ধরার ক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িক ট্যাগ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা চলছে। তবে পুলিশ বলছে, তদন্তে নিহত ব্যক্তির চরমপন্থী কর্মকাণ্ড ও অপরাধমূলক সম্পৃক্ততাই মূল বিবেচনায় রয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত আছে।
