ভোলার লালমোহন উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত জোটের সদস্য দল বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের দাবি অনুযায়ী অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর উপজেলার রায়চাঁদ বাজার এলাকায় এই সংঘর্ষ হয়।
জামায়াত সমর্থিত বিডিপির সংসদ সদস্য প্রার্থী নিজামুল হক নাঈম সাংবাদিকদের জানান, শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে জামায়াতের নারী কর্মীরা গণভোট ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশ নিতে ইউনুছ পাটওয়ারীর বাড়িতে গেলে স্থানীয় এক যুবক তাদের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করেন। বিষয়টি জানতে পেরে এক নারী কর্মীর স্বামী ও রায়চাঁদ বাজারের ব্যবসায়ী মো. জসিম উদ্দিন ওই যুবকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকেও গালিগালাজ করা হয়। পরে ওই যুবক জসিম উদ্দিনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়।
নিজামুল হক নাঈম বলেন, ঘটনার পর প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও সন্ধ্যার দিকে বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মী বাজার এলাকায় জড়ো হন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিডিপি কর্মীরা সরে যেতে শুরু করলে তাদের ওপর পেছন থেকে হামলা চালানো হয়। এতে বিডিপির অন্তত ১৫ জন নেতা-কর্মী গুরুতর আহত হয়ে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন।
অন্যদিকে, লালমোহন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল অভিযোগ করেন, জামায়াতের সহায়তায় বিডিপির ব্যানারে আওয়ামী ও মহিলা লীগের সঙ্গে যুক্ত কিছু সন্ত্রাসী উপাদান এলাকায় অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করে। তার দাবি, সন্ধ্যার পর আওয়ামী ও জামায়াতের ক্যাডাররা অতর্কিতভাবে বিএনপির যুবদল ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে ১২ থেকে ১৫ জন আহত হন এবং গুরুতর পাঁচজনকে ভোলা ও ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তিনি এ ঘটনার জন্য আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও জামায়াত সংশ্লিষ্টদের দায়ী করে শাস্তির দাবি জানান।
লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. অলিউল ইসলাম জানান, জুমার নামাজের আগে জামায়াতের নারী কর্মীদের দাওয়াতি কার্যক্রম ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে সন্ধ্যার পর রায়চাঁদ বাজারে জামায়াত নেতা-কর্মীদের মোটরসাইকেল মহড়া এবং পরে বিএনপি নেতা-কর্মীদের জমায়েতের ফলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে রাস্তার কাজে ব্যবহৃত ইট দিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
তিনি আরও জানান, লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ৯ জন আহত ভর্তি হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাত ১১টা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল।
