ফোনালাপে মেহেরবান মিঠু জানান, রয়েল ফুটবল একাডেমির একজন সদস্য বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-এ সুযোগ পাওয়ায় তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছিল। এ কারণে অনুষ্ঠান শেষ হতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছিল।
বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, এখনই শেষ হয়ে যাবে, আপু। এ সময় ‘আপু’ সম্বোধনে ইউএনও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান বলে অভিযোগ ওঠে।
ফোনালাপের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সেখানে ইউএনওকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি আপনার আপু নই—ফর ইউর কাইন্ড ইনফরমেশন। অনুমতি নেওয়ার সময় তো এত রাত হওয়ার কথা ছিলো না। আপনি কি এই অনুষ্ঠানের অনুমতি নিতে এসেছিলেন?
এ সময় মেহেরবান মিঠু জানান, তিনি নিজে অনুমতি নিতে উপস্থিত ছিলেন না। পরে ইউএনওর কঠোর মনোভাবের কারণে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই মন্তব্য করেন, সরকারি কর্মকর্তাদের ‘স্যার’ বা ‘ম্যাম’ বলে সম্বোধনের কোনো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই এবং ‘আপু’ একটি সম্মানসূচক ও ভদ্র সম্বোধন। আবার কেউ কেউ প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও সরকারি কর্মকর্তাদের মর্যাদার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে রয়েল ফুটবল একাডেমির সহসভাপতি মেহেরবান মিঠু বলেন, নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনুষ্ঠান দেরিতে শেষ হওয়ায় আমি বিনয়ের সঙ্গে দুঃখ প্রকাশ করে আপু বলেছিলাম। এতে তিনি ক্ষুব্ধ হবেন, তা ভাবিনি। বিষয়টি আমাদের সবাইকে কষ্ট দিয়েছে।
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামিমা আক্তার জাহান বলেন, আপু বলার কারণে আমি রাগ করিনি। গভীর রাত পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলছিল, তাই সেটি বন্ধ করতে বলেছি। বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে প্রশাসনিক আচরণ ও সামাজিক সম্বোধন নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
উল্লেখ্য, কালাই উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামিমা আক্তার জাহানের বিরুদ্ধে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ না করেই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় তার সম্পৃক্ততা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। জাতীয় শিক্ষানীতি উপেক্ষা করে স্কুল-কলেজের পরীক্ষায় পাসের হার ৪০ থেকে বাড়িয়ে ৫০ নম্বর করার একতরফা নির্দেশ দিয়ে তিনি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।
