ঢাকা-১১ আসনে বিএনপির প্রার্থী এম এ কাইয়ুমের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও তা হলফনামায় গোপন করে মনোনয়ন জমা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যাচাই করে জানা গেছে, এম এ কাইয়ুমের দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ রাষ্ট্র Republic of Vanuatu-এর নাগরিকত্ব রয়েছে।
ভানুয়াতু থেকে ইস্যুকৃত এম এ কাইয়ুমের একটি পাসপোর্টের কপি আমাদের হাতে এসেছে। পাসপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ভানুয়াতুর নাগরিকত্ব লাভ করেন। পাসপোর্ট নম্বর RV0185526 এবং এর মেয়াদ ২০৩৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। পাসপোর্টে উল্লেখিত জন্মতারিখ ০২ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৩—যা তার জমা দেওয়া হলফনামায় উল্লিখিত জন্মতারিখের সঙ্গে মিলে যায়।
পাসপোর্টটির নকশা ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য ভানুয়াতুর প্রচলিত পাসপোর্ট ডিজাইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সত্যতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে ভানুয়াতুর অন্তত দুইজন নাগরিকের পাসপোর্টের সঙ্গে কাইয়ুমের পাসপোর্ট মিলিয়ে দেখা হয়েছে।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনে এম এ কাইয়ুমের দাখিল করা হলফনামা পর্যালোচনায় দেখা যায়—সেখানে তার দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। বাংলাদেশের নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, দ্বৈত নাগরিকত্বধারীরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে হয়। একই সঙ্গে সংবিধানেও বলা আছে, বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব থাকলে কেউ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।
উল্লেখ্য, প্রায় ৮০টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ভানুয়াতু বিদেশি নাগরিকদের বিনিয়োগের বিনিময়ে নাগরিকত্ব দিয়ে থাকে। দেশটির ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্ট ইমিগ্রেশন প্রোগ্রাম-এর আওতায় ন্যূনতম ১ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করলে ২–৩ মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব পাওয়া যায়।
ভানুয়াতুর পাসপোর্টধারীরা সুইজারল্যান্ড, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর, হংকং, বাহামা, বতসোয়ানা, কম্বোডিয়া ও মালয়েশিয়াসহ মোট ৮৩টি দেশে ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুবিধা পান। এর আগে ইউরোপের শেনজেনভুক্ত দেশসমূহ ও যুক্তরাজ্যেও ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার ছিল। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে এবং যুক্তরাজ্য ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে এ সুবিধা স্থগিত করে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গন।
