যশোরের শার্শা উপজেলায় চাঁদা না পেয়ে একটি নির্মাণাধীন সড়কের উন্নয়নকাজ বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি সড়কের ইট তুলে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার রাতে উপজেলার উলাশী ইউনিয়নের জিরেনগাছা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জিরেনগাছা, কাশিয়াডাঙ্গা ও মাটিপুকুরিয়া গ্রামে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রভাব বিস্তার করে আসছে।
ভুক্তভোগী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সারুন অ্যান্ড সাফা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী নাসির উদ্দিন জানান, জিরেনগাছা এলাকায় প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ব্যয়ে ৭৩ মিটার সড়কের হেরিংবাঁধাইয়ের কাজ চলছিল। গত ১৫ জানুয়ারি কাজ শুরু হলে স্থানীয় বাসিন্দা আরমান হোসেন ওরফে ডাবলু তার ছোট ভাইসহ কয়েকজন সহযোগী নিয়ে এসে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা কাজ বন্ধ করে দেন।
তিনি বলেন, প্রথমে জমিসংক্রান্ত অজুহাত দেখানো হলেও পরে শ্রমিকদের ভয় দেখিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। চাঁদার দাবি পূরণ না করায় কাজ শুরুর পরদিন ভোরে নির্মিত সড়কের এক পাশের ইট তুলে ফেলা হয়।
এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জিরেনগাছা গ্রামের প্রধান সড়ক থেকে আছির উদ্দিনের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৭৫০ মিটার সড়ক নির্মাণকে কেন্দ্র করে এ বিরোধের সূত্রপাত। অভিযোগ রয়েছে, কাজ শুরুর আগেই মাইকিং করে সড়ক নির্মাণ বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়। সে সময় রাজনৈতিক অজুহাতে বলা হয়, সড়কটি নির্মিত হলে একটি নির্দিষ্ট পক্ষ লাভবান হবে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ডাবলুর নেতৃত্বে তার ছোট ভাই নবাব, মাটিপুকুরিয়ার সেলিমসহ আশপাশের গ্রামের ২০–২৫ জন যুবক নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে উঠেছে। তারা নিয়মিত চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সহিংস কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পুরো এলাকা আতঙ্কের মধ্যে রাখছে। সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রেও তাদের ‘ম্যানেজ’ করতে হয়, অন্যথায় হুমকি ও হামলার শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
জিরেনগাছা গ্রামের বাসিন্দা ও উলাশী ইউনিয়ন বিএনপির ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোমিনুর রহমান বলেন, “ডাবলু একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, গাছ কেনার সময়ও জোরপূর্বক অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, গত ১২ জানুয়ারি গ্রামে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলেও আগের রাতে ডেকোরেশনের মালামাল পৌঁছানোর পর অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় বাজার এলাকায় ফাঁকা গুলি ছোড়ার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে, যা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আরমান হোসেন ওরফে ডাবলু। তিনি বলেন, “আমি এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। সড়ক নির্মাণ নিয়ে স্থানীয় বিরোধ রয়েছে।
উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে জড়ানো হচ্ছে।”
উলাশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ বলেন, “ডাবলু বিএনপির কর্মী হলেও তার কোনো সাংগঠনিক পদ নেই। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি দলীয়ভাবে ঊর্ধ্বতন নেতাদের জানানো হয়েছে।”
শার্শা থানা সূত্র জানায়, আরমান হোসেন ডাবলুর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসহ একাধিক মামলার তথ্য রয়েছে। তবে মামলাগুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আদালতের এখতিয়ার।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন বলেন, “এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
