বাংলাদেশ তুরস্কের সঙ্গে ৬০০ মিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তির আওতায় ৬টি T-129 ATAK অ্যাটাক হেলিকপ্টার ক্রয় সম্পন্ন করেছে। প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আধুনিকীকরণের অংশ হিসেবে এই চুক্তিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্য অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার টেন্ডারের আওতায় তুরস্ক তাদের T-129 ATAK হেলিকপ্টার অফার করেছিল। সেনাবাহিনীর জন্য প্রাথমিকভাবে ৬ থেকে ৮টি অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার পরিকল্পনা ছিল। এই প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের AH-1Z ভাইপার এবং তুরস্কের T-129 ATAK হেলিকপ্টারকে ফ্রন্টরানার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। সর্বশেষ সিদ্ধান্তে তুরস্কের T-129 ATAK হেলিকপ্টারই ক্রয়ের বিষয়ে চুক্তি সম্পন্ন হলো।
T-129 ATAK হেলিকপ্টারটি তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠান টার্কিশ অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ (TAI) নির্মিত একটি আধুনিক আক্রমণ ও নিকটস্থ আকাশ সহায়তা হেলিকপ্টার। এটি ইতালির A129 Mangusta প্ল্যাটফর্মের ওপর ভিত্তি করে উন্নত করা হলেও তুরস্কের নিজস্ব প্রযুক্তি, অ্যাভিওনিক্স ও অস্ত্র ব্যবস্থার সংযোজনে একটি পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক যুদ্ধ হেলিকপ্টারে রূপ পেয়েছে।
এই হেলিকপ্টারটি সন্ত্রাস দমন, সীমান্ত নিরাপত্তা, স্থলবাহিনীকে আকাশ সহায়তা প্রদান এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। T-129 দুই সদস্যের ক্রু দ্বারা পরিচালিত হয়—একজন পাইলট ও একজন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা। এতে সম্পূর্ণ ডিজিটাল গ্লাস ককপিট রয়েছে, যা দিন-রাত ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় অপারেশনের সক্ষমতা দেয়।
T-129 হেলিকপ্টারে উন্নত ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল ও ইনফ্রারেড সেন্সর, লেজার রেঞ্জ ফাইন্ডার এবং টার্গেট ডিজিনেশন সিস্টেম সংযুক্ত রয়েছে, যা দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তু নির্ভুলভাবে শনাক্ত ও আঘাত হানতে সহায়তা করে। এতে হেলমেট-মাউন্টেড ডিসপ্লে সিস্টেম থাকায় পাইলট মাথার নড়াচড়ার মাধ্যমেই লক্ষ্যবস্তুতে অস্ত্র নির্দেশনা দিতে পারেন।
অস্ত্র ব্যবস্থার দিক থেকে T-129 অত্যন্ত শক্তিশালী। এতে ২০ মিলিমিটার ত্রিমুখী স্বয়ংক্রিয় কামান রয়েছে। পাশাপাশি তুরস্কের তৈরি UMTAS অ্যান্টি-ট্যাংক ক্ষেপণাস্ত্র, Cirit লেজার গাইডেড রকেট, বিভিন্ন ধরনের রকেট পড ও স্মার্ট অস্ত্র বহনের সক্ষমতা রয়েছে। এসব অস্ত্র ব্যবস্থার মাধ্যমে এটি সাঁজোয়া যান, শত্রু ঘাঁটি এবং চলমান ও স্থির লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে কার্যকর আঘাত হানতে পারে।
হেলিকপ্টারটির টিকে থাকার সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্য। এতে উন্নত ইলেকট্রনিক কাউন্টারমেজার, রাডার ও মিসাইল সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং বর্ম সুরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে, যা শত্রুপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মধ্যেও অপারেশন পরিচালনায় সহায়তা করে।
বিশ্লেষকদের মতে, T-129 ATAK হেলিকপ্টার যুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশের আকাশ ও স্থল সমন্বিত সামরিক সক্ষমতা আরও সুদৃঢ় হবে। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া জানাতে এই হেলিকপ্টার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
