জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত পলিসি সামিটে ৩০টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে পলিসি সামিট–২০২৬ শুরু হয়।
জামায়াতের পররাষ্ট্র বিভাগের এক দায়িত্বশীল নেতা জানান, সকাল থেকেই বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা সামিটে অংশ নিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, কোরিয়া, ভারত, পাকিস্তান, ইরান, মালয়েশিয়া, তুরস্ক, মালদ্বীপ, ব্রুনাই, শ্রীলঙ্কাসহ মোট ৩০টি দেশের প্রতিনিধির উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে।

সামিটের শুরুতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ এখন কেবল টিকে থাকা নয়, বরং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।
তিনি আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে একটি নতুন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক রূপরেখা তুলে ধরেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস একটি দীর্ঘ ও অসমাপ্ত সংগ্রামের ইতিহাস—রাজনৈতিক স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক মুক্তি ও মানবিক মর্যাদার সংগ্রাম। ১৯৪৭ সালে ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল সামাজিক ন্যায়বিচার ও অর্থনৈতিক মুক্তি। তবে পাঁচ দশকের বেশি সময় পার হলেও সেই প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।

তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতা ও কর্তৃত্ববাদী চর্চার কারণে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়েছে, জবাবদিহি কমেছে এবং নাগরিকদের কণ্ঠস্বর সংকুচিত হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে জনগণ, বিশেষ করে তরুণ সমাজ, নিজেদের অধিকার ও ভবিষ্যৎ পুনরুদ্ধারের দাবিতে আবারও রাজপথে দাঁড়িয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সামিটে অংশ নেওয়া দেশগুলোর প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে আলোচনা করবেন বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।







