বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ‘পলিসি সামিট–২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নসংক্রান্ত ৩১ দফা নীতিমালা ঘোষণা করা হয়।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে আয়োজিত এ সামিটে বিভিন্ন প্যানেল আলোচনার মাধ্যমে নীতিগুলো উপস্থাপন করা হয়।
ঘোষিত নীতিমালার মধ্যে রয়েছে—দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ, ট্যাক্স ও ভ্যাটের হার ধাপে ধাপে কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে ট্যাক্স ১৯ শতাংশ ও ভ্যাট ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা, এনআইডি, টিআইএন, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা সমন্বিত স্মার্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড চালু, আগামী তিন বছরে শিল্প খাতে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির চার্জ না বাড়ানো, বন্ধ কলকারখানা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে চালু করে শ্রমিকদের জন্য ১০ শতাংশ মালিকানা নিশ্চিত করা, ব্যবসাবান্ধব নীতি ও সহজ লাইসেন্সিং ব্যবস্থা প্রবর্তন এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের জন্য সুদবিহীন ঋণ সুবিধা প্রদান।
শিক্ষা খাতে ঘোষণার মধ্যে রয়েছে—গ্রাজুয়েশন শেষে চাকরি পাওয়া পর্যন্ত সর্বোচ্চ দুই বছর মেয়াদে পাঁচ লাখ গ্রাজুয়েটকে মাসিক সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা সুদমুক্ত ঋণ প্রদান, মেধা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে এক লাখ শিক্ষার্থীকে মাসিক ১০ হাজার টাকা সুদমুক্ত শিক্ষাঋণ, প্রতিবছর বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের জন্য ১০০ শিক্ষার্থীকে সুদমুক্ত শিক্ষাঋণ প্রদান। এছাড়া ইডেন কলেজ, বদরুন্নেসা কলেজ ও হোম ইকোনোমিক্স কলেজ একীভূত করে বিশ্বের সর্ববৃহৎ নারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বড় কলেজগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর এবং সকল নিয়োগ মেধাভিত্তিক করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্যসেবা খাতে ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে বয়স্ক ও পাঁচ বছরের নিচে শিশুদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, ৬৪ জেলায় ৬৪টি বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন এবং ‘ফার্স্ট থাউজেন্ড ডেইজ প্রোগ্রাম’-এর আওতায় গর্ভধারণ থেকে শিশুর দুই বছর বয়স পর্যন্ত মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
তরুণদের জন্য ঘোষিত পরিকল্পনায় রয়েছে—দক্ষ জনশক্তি ও কর্মসংস্থানের জন্য নতুন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা, পাঁচ বছরে এক কোটি তরুণকে বাজারভিত্তিক দক্ষতা প্রশিক্ষণ, প্রতিটি উপজেলায় ‘ইয়ুথ টেক ল্যাব’ স্থাপন, প্রতিটি জেলায় ‘জেলা জব ইয়ুথ ব্যাংক’ গঠন করে পাঁচ বছরে ৫০ লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, নারী ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দিয়ে পাঁচ লাখ উদ্যোক্তা তৈরি, ১৫ লাখ ফ্রিল্যান্সার গড়ে তোলা এবং স্বল্পশিক্ষিত যুবকদের জন্য উপযোগী স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম চালু।
আইসিটি খাতে ‘ভিশন ২০৪০’ ঘোষণা করে ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ লাখ আইসিটি জব সৃষ্টি, ফ্রিল্যান্সার ও ডিজিটাল রফতানির জন্য ন্যাশনাল পেমেন্ট গেটওয়ে স্থাপন, আইসিটি খাত থেকে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার রফতানি আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ, সরকারের ১৫০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় সাশ্রয় এবং শ্রমনির্ভর অর্থনীতি থেকে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে দক্ষ জনশক্তির মাধ্যমে পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে রেমিট্যান্স আয় দুই থেকে তিনগুণ বৃদ্ধি এবং প্রবাসী বাংলাদেশি প্রফেশনাল, গবেষক ও শিক্ষকদের দেশে ফিরিয়ে এনে ‘ইন্টেলেকচুয়াল রেমিট্যান্স’ জোরদারের ঘোষণা দেওয়া হয়।
সামিটে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, কূটনীতিক, রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সম্পাদক ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন।
ঘোষিত নীতিমালার মাধ্যমে অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইসিটি, তরুণ উন্নয়ন ও রেমিট্যান্স খাতে সমন্বিত উন্নয়নের একটি বিস্তৃত রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়।
