১০ টাকা কেজি চালসহ বিভিন্ন কার্ডের প্রলোভন দেখিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, মানুষকে যেন এখনই ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে—এসব কর্মকাণ্ডে আচরণবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে না কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। আমরা কোনো আচরণবিধি লঙ্ঘন করিনি। প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে কি না, সেটিও তদন্ত হওয়া উচিত। জনগণের ভোটাধিকার ও শক্তিকে চোরাপথে প্রভাবিত করার যেকোনো চেষ্টা আমরা ঘৃণা করি।
শুক্রবার সকালে উত্তরাঞ্চলে নির্বাচনি সফরে যাওয়ার আগে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সফরের অংশ হিসেবে আজ পঞ্চগড়, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও রংপুরে চারটি বড় নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াত আমির বলেন, বিকাশ নম্বর সংগ্রহের প্রশ্নই ওঠে না। আমরা মানুষকে কেনার রাজনীতি করি না। মানুষের জীবন ও মর্যাদার প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল। যারা নিজেরাই এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত, তারাই দায় অন্যের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, গত ৫৪ বছরে দেশ লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি দেখেছে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হয়েছে, জাতির কাঁধে বিপুল ঋণের বোঝা চাপানো হয়েছে। বিপুলসংখ্যক যুবক বেকারত্বে ভুগছে। কর্মক্ষেত্রে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ। এই বাস্তবতায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আমাদের প্রথম বার্তা হলো—দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পরস্পরের প্রতি আঘাত না করে নিজ নিজ কর্মসূচি নিয়ে জনগণের কাছে যেতে হবে। জনগণ যাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে, সবাইকে তার প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতে হবে। নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করার যেকোনো অসৎ উদ্দেশ্য থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। রাষ্ট্রের কোনো পর্যায়ের কেউ এতে জড়িত হওয়া উচিত নয়।
প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের পরিবর্তনের পর প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে আমরা আন্দোলনসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছি। সরকার এ দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে সুযোগ দেওয়ায় ধন্যবাদ জানাই। ইতোমধ্যে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো শুরু হলেও কিছু জায়গায় এখনো ব্যালট পৌঁছায়নি। সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানাই।
তিনি বলেন, ভোট শুধু প্রবাসীদের অধিকার নয়, এটি একটি পবিত্র দায়িত্বও। যারা রাজনীতিতে পরিবর্তন চান, তারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন।
জামায়াত আমির বলেন, আমরা একা নয়—সবাই মিলে বাংলাদেশ গড়তে চাই। ব্যতিক্রম থাকলেও দেশপ্রেমিক ও ইসলামি দলগুলোকে নিয়ে একসঙ্গে এগোচ্ছি। আমাদের স্লোগান—‘চলো একসঙ্গে গড়ি বাংলাদেশ’। ঢাকার বাইরে সফরের মাধ্যমে আমরা জনগণের কথা শুনব, তাদের আশ্বস্ত করব এবং সুযোগ পেলে ইনসাফভিত্তিক উন্নয়ন ও সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধানে কাজ করব।
নির্বাচন যেন গৌরবজনক ও স্মরণীয় হয়—সে জন্য তরুণদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন অবশ্যই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে হবে।
এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন এবং ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের সহকারী প্রচার সম্পাদক আব্দুস সাত্তার সুমন।
