১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক, জনবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে ধর্মে ধর্মে কোনো সংঘাত থাকবে না।’ দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা কাউকে ভাতা নয়, কাজ দেব। চাঁদাবাজদের হাতকে কর্মের হাতে রূপান্তর করব এবং কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তাদের ভুল পথ থেকে ফিরিয়ে আনব।’ তিনি জুলাই শহীদদের ঋণ শোধের আহ্বান জানিয়ে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানান।
শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ী সুতি মাহমুদ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত ১০ দলীয় ঐক্যের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। উত্তরাঞ্চলে নির্বাচনি সফরের দ্বিতীয় দিনের প্রথম কর্মসূচি হিসেবে তিনি রংপুরের পীরগঞ্জে জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে জনসভায় যোগ দেন। পরে বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় ধারাবাহিক জনসভা ও পথসভায় বক্তব্য দেন জামায়াত আমির।
পলাশবাড়ীর জনসভায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে সমাবেশস্থল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কারো লাল চোখকে ভয় করি না। আবার আমাদের দেশের ওপর কোনো খবরদারিও সহ্য করব না। সব দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক হবে সম্মানের ভিত্তিতে।’ উত্তরাঞ্চলের নদীগুলোর অবক্ষয়ের কথা তুলে ধরে তিনি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, নদীর প্রাণ ফিরিয়ে আনা এবং নর্থ বেঙ্গলকে কৃষিভিত্তিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন। এ অঞ্চলে মেডিকেল কলেজ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কথাও বলেন তিনি।
নারীদের প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘নারীরা মায়ের জাত। তাদের কর্মসংস্থান বাড়ানোসহ বাসা ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।’ বক্তব্য শেষে তিনি গাইবান্ধার পাঁচটি আসনের ১০ দলীয় জোটসমর্থিত জামায়াত প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন।
বগুড়ায় আয়োজিত জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বগুড়া উত্তরবঙ্গের রাজধানী। সুযোগ পেলে ঐতিহ্যবাহী বগুড়াকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা হবে এবং একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে।’ তিনি বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছরে বিপুল অর্থ পাচার হয়েছে, যা উদ্ধার করা হবে। ‘রাষ্ট্রীয় তহবিল লুটেরাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে,’ যোগ করেন তিনি।
সিরাজগঞ্জ ও শেরপুরের জনসভায় জামায়াত আমির আধিপত্যবাদ, দুর্নীতি ও মামলাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা ওয়াচডগের ভূমিকা পালন করবেন। সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলবেন।’ একই সঙ্গে চাঁদাবাজ, দখলবাজ ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
পাবনায় রাতের জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির মূল লক্ষ্য।’ তিনি বলেন, জনগণের রায় পেলে ইনসাফ, ন্যায় ও মানবিক কল্যাণভিত্তিক সরকার গঠন করা হবে এবং কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদ ফিরে আসতে দেওয়া হবে না।
তিনি জানান, আজ রোববার রাজধানীর ঢাকা-৫, ঢাকা-৬ ও ঢাকা-৭ আসনে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় অংশ নেবেন জামায়াত আমির।
