অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করা অর্থ সম্মানের সঙ্গে দেশে ফিরিয়ে আনলে রাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আরও সম্মান দেবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে ব্যবসায়ীদের নিয়ে আয়োজিত ‘দ্য প্রসপারিটি ডায়ালগ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি স্পষ্ট করেন, পাচার করা অর্থ ফেরত নেওয়ার উদ্দেশ্য কাউকে অপমান করা নয়, বরং জাতির বৃহত্তর কল্যাণ নিশ্চিত করা।
শিল্প ও বিনিয়োগ খাতের সংকটের কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, বর্তমানে ব্যবসায়ীরা তহবিলের নিরাপত্তাহীনতা, সম্পদের সুরক্ষার অভাব এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার ঘাটতিতে ভুগছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ‘লাল ফিতার’ জটিলতা। তিনি অভিযোগ করেন, ঘুষকে ‘স্পিড মানি’ নামে বৈধ করার প্রবণতা শিল্পখাতকে শুরুতেই বড় ধাক্কা দেয়। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে এই লাল ফিতা সংস্কৃতি এবং আত্মীয়স্বজনের রাতারাতি ধনী হওয়ার ধারা চিরতরে ভেঙে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।
ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আপনারা লাখো মানুষের জীবিকা নিশ্চিত করেন, তাই আপনাদের রক্ষা করা রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব। শিল্প ও ব্যবসাকে শিশুর মতো আগলে রাখা হবে। ব্যাংক ও শেয়ারবাজারের সংকট নিরসনে নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ব্যাংকিং ও পুঁজিবাজারের পারস্পরিক সম্পর্ক তিনি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং এই খাতগুলোকে স্থিতিশীল করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
দেশের উন্নয়নের জন্য ‘হিউম্যান ইন্ডাস্ট্রি’ বা মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, মানুষের মেধা, যোগ্যতা ও পরিশ্রমের সমন্বয় ঘটলে কোনো ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হন না। সফল হওয়ার জন্য সৎ উদ্দেশ্য, কারিগরি জ্ঞান এবং সংকটে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহসের ওপর জোর দেন তিনি। উদাহরণ হিসেবে তিনি দেশের শীর্ষ ২৭ জন ব্যবসায়ীর কথা উল্লেখ করেন, যাদের অধিকাংশেরই কোনো পারিবারিক পুঁজি ছিল না, বরং কঠোর পরিশ্রম ও সততার মাধ্যমেই তারা সফল হয়েছেন।
নারীদের মর্যাদা ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা নারীদের বিশেষ কিছু গুণ দিয়েছেন যা পুরুষের নেই। মায়েদের যথাযথ সম্মান নিশ্চিত করা সমাজের দায়িত্ব। এই বিশেষ মর্যাদাকে কেন্দ্র করেই জামায়াত মায়েদের কল্যাণে বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে, যা নিয়ে কোনো কোনো মহলে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে। তিনি ১৮ কোটি মানুষের ৩৬ কোটি হাত একত্র করে একটি ঐক্যবদ্ধ এবং ইনসাফপূর্ণ জাতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
