চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে ইমাম হোসেন (২৫) নামে এক ছাত্রদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার বারৈয়ারহাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ইমাম হোসেন বারৈয়ারহাট বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং স্থানীয় জামালপুর গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ওই ছাত্রীকে নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করিয়ে স্থানীয় একটি বাগানে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন ইমাম ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে জোরারগঞ্জ থানায় তিনজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার অপর দুই আসামি হলেন ইমামের সহযোগী হৃদয় (২৫) ও রানা (২৭)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধর্ষণের পর বিষয়টি কাউকে না জানাতে কিশোরীর পরিবারকে হুমকি দিয়ে আসছিল অভিযুক্তরা। ভুক্তভোগীর বাবা পেশায় একজন দরিদ্র ফেরিওয়ালা হওয়ায় প্রভাবশালী আসামি পক্ষ ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং মামলা না করতে পরিবারটির ওপর ব্যাপক চাপ প্রয়োগ করে। এমনকি তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে এলাকা থেকে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি ইমাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অন্য দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভুক্তভোগী কিশোরীকে উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার হোসেন রুবেল জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে একটি নির্বাচনী সমাবেশে রয়েছেন। বিষয়টি বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে দেখবেন এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
