কুখ্যাত মার্কিন যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন সংক্রান্ত সাম্প্রতিক নথি প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগ কর্তৃক জনসমক্ষে আনা এই নথিতে উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক রাজনীতিক ও টেক জায়ান্টদের বিকৃত যৌনাচার, পাশবিকতা এবং অমানবিক সব নির্যাতনের লোমহর্ষক তথ্য। এই নথিতে মার্কিন রাজনীতিকদের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টুর সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
জেফরি এপস্টেইন ছিলেন একজন মার্কিন ধনকুবের, যার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি প্রভাবশালীদের জন্য একটি আন্তর্জাতিক শিশু পাচার ও যৌন শোষণ চক্র পরিচালনা করতেন। ২০০৬ সালে প্রথম গ্রেপ্তার হওয়ার পর ২০১৯ সালে জেলখানায় তার রহস্যজনক মৃত্যু হয়। সম্প্রতি প্রকাশিত কয়েক হাজার পৃষ্ঠার নথিতে এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপে যাতায়াতকারী বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রেসিডেন্ট, ধনকুবের এবং সেলিব্রিটিদের নাম ও তাদের বিকৃত লালসার বিবরণ উঠে এসেছে।
প্রকাশিত নথিতে কেবল যৌন নির্যাতনই নয়, বরং শিশুদের ভয় দেখানো, পাশবিকতা এমনকি নরখাদকের মতো ভয়াবহ ও অদ্ভুত সব কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া গেছে। টেক জায়ান্ট ও প্রভাবশালী রাজনীতিকরা কীভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে শিশুদের ওপর বর্বরতা চালিয়েছে, তার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এই নথির মাধ্যমে উন্মোচিত হয়েছে যে, পর্দার অন্তরালে একটি বিশাল চক্র অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে দীর্ঘ সময় ধরে এই মানবিক বিপর্যয় চালিয়ে আসছিল।
এদিকে, এই নথিতে বাংলাদেশের রাজনীতির যোগসূত্রও খুঁজে পাওয়া গেছে। সাবেক গভর্নর ও রাজনীতিক বিল রিচার্ডসন, যিনি এপস্টেইনের অন্যতম ঘনিষ্ঠ এবং তার ক্যাম্পেইনে বড় অঙ্কের অনুদান পেয়েছিলেন, তাকে ৫ হাজার ডলার অনুদান দিয়েছিলেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টু। ২০০৬ সালের ৭ মার্চের একটি ফাইলে এই অনুদানের প্রমাণ পাওয়া যায়। এছাড়া বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে হওয়া বিভিন্ন বর্বরতা ও নির্যাতনে আন্তর্জাতিক মহলের একাংশের যে পরোক্ষ সমর্থন ছিল, তার পেছনেও এই ধরনের শক্তিশালী লবিস্ট ও অপরাধী চক্রের সংযোগ থাকতে পারে বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন।
এই নথি প্রকাশের ফলে বিশ্বজুড়ে প্রভাবশালীদের আসল চেহারা উন্মোচিত হচ্ছে। সাধারণ মানুষ ও মানবাধিকার সংস্থাসমূহ এখন এসব অপরাধের সাথে জড়িত প্রত্যেকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছে। এপস্টেইন নথি কেবল একটি অপরাধের বিবরণ নয়, বরং এটি ক্ষমতার উচ্চস্তরে থাকা ব্যক্তিদের নৈতিক অবক্ষয় এবং বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার একটি কলঙ্কিত অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
