জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশকে আফগানিস্তানে পরিণত করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) নিজ নির্বাচনী এলাকা ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ঢোলারহাট বাজারে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামী নারীদের কর্মসংস্থান ও শিক্ষার পথে অন্তরায় এবং তারা দেশটাকে মধ্যযুগীয় অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিতে চায়।
জনসভায় মির্জা ফখরুল জামায়াত আমিরের বিতর্কিত একটি পোস্টের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, জামায়াত নারীদের কাজ করার অধিকার দিতে চায় না। তারা গার্মেন্টস কর্মীদের কাজের সময় সীমিত করতে চায় এবং নারী শিক্ষা ও চাকরির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তিনি পরিষ্কারভাবে জানান যে, বিএনপি দেশে নারী-পুরুষের সমান অধিকারে বিশ্বাসী এবং জামায়াতের এই ‘পেছনের দিকে যাওয়ার’ রাজনীতি সাধারণ মানুষ মেনে নেবে না।
মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১৯৭১ সালে যখন এ দেশের মানুষ স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করছিল, তখন জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সাথে যোগসাজশ করে সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে এবং পাকিস্তানি বাহিনীকে সহায়তা করেছে, তাদের হাতে দেশ কখনোই নিরাপদ হতে পারে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ঘোষণা করেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে। পাশাপাশি এনজিও থেকে নেওয়া ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের কিস্তির দায়িত্বও সরকার গ্রহণ করবে। বেকারত্ব দূরীকরণে আগামী দেড় বছরের মধ্যে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি জানান, তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
নারীদের ক্ষমতায়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এই কার্ডে নারীর ছবি ও নাম থাকবে, যার মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে নিত্যপণ্য ও চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া সরকারিভাবে মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন এবং মন্দিরের পুরোহিতদের বেতন-ভাতার ব্যবস্থা করার অঙ্গীকারও করেন তিনি। ঠাকুরগাঁওয়ে মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিমানবন্দর চালুর মাধ্যমে অঞ্চলটিকে একটি মডেল অঞ্চলে রূপান্তরের আশ্বাস দেন মির্জা ফখরুল।
