ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) সংসদীয় আসনে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণের অভিযোগে বিএনপি প্রার্থীর ছয়জন সমর্থককে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভালুকা উপজেলার মেদুয়ারী ইউনিয়নের বগাজান এলাকা থেকে তাঁদের আটক করার পর এই সাজা প্রদান করা হয়। সাজাপ্রাপ্তরা হলেন—আবদুল হামিদ, মো. তানভীর, গোলাম রাব্বী, মেহেদী হাসান, মো. শামসুদ্দিন ও গোলাম শহীদ। অভিযানকালে তাঁদের কাছ থেকে নগদ ২৫ হাজার টাকা, ৬টি মুঠোফোন, টাকা বিতরণের হিসাবের খাতা এবং একটি প্রাইভেট কার জব্দ করা হয়েছে।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বগাজান এলাকায় ধানের শীষের প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদের পক্ষে একটি চক্র টাকা বিতরণ করছে—এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর একটি টহল দল সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানে সাতজনকে আটক করা সম্ভব হলেও ঘটনাস্থলে থাকা ৩০ জনের বিশাল দলটির বাকি সদস্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। খবর পেয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ বি এম কাউসার জামান দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং প্রাথমিক তদন্তে টাকা বিতরণের অভিযোগের সত্যতা পান।
আটক ব্যক্তিরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে স্বীকার করেছেন যে, তাঁরা ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে নির্দিষ্ট ভোটারদের প্রভাবিত করার জন্য টাকা দিচ্ছিলেন। তাঁদের এই স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে অভিযুক্ত সাতজনের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ছয়জনকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে আটককৃতদের মধ্যে একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাকে দণ্ড না দিয়ে মুচলেকা গ্রহণ করে তার মায়ের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ফিরোজ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, জব্দ করা হিসাবের খাতাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আলামত। এই খাতায় কোন মহল্লায় কবে কত টাকা বিতরণ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে কোথায় কত টাকা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল, তার বিস্তারিত তথ্য লিপিবদ্ধ রয়েছে। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষায় এবং এ ধরনের অনিয়ম রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
