জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) আইডি হ্যাক করে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ার ঘটনায় বঙ্গভবনের এক কর্মকর্তার সরকারি ই-মেইল ব্যবহারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাতে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়কে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পাওয়া গেলে দলীয়ভাবে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে জামায়াতের একটি প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও আলোচনা শেষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ আল্টিমেটামের কথা জানানো হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ও ডিজিটাল ক্যাম্পেইন টিমের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম বলেন, গত ৩১ জানুয়ারি বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স আইডি হ্যাক করে নারীবিদ্বেষী ও অনাকাঙ্ক্ষিত একটি পোস্ট দেওয়া হয়। বিষয়টি নজরে আসার পর দলের আইটি টিম দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে বিকেল ৫টা ৯ মিনিটে আইডিটির পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে। এরপর ৫টা ২২ মিনিটে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় ওই রাতেই থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয় এবং পরদিন সকালে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি হ্যাকিংয়ের ঘটনায় বঙ্গভবনের এক কর্মকর্তার সরকারি ই-মেইল আইডি ব্যবহারের অভিযোগ তুলে সরকার ও নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে লিখিতভাবে জানানো হয়। কিন্তু একাধিক দিন পার হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া না পাওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানতেই আমরা বঙ্গভবনে উপস্থিত হই।
ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আদিল চৌধুরী অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে প্রতিনিধি দলকে গ্রহণ করেন। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী আলোচনায় হ্যাকিংয়ের বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। ফরেনসিক প্রতিবেদনের মাধ্যমে হ্যাকিংয়ে ব্যবহৃত সরকারি ই-মেইল আইডির বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত হওয়া গেছে। রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব আমাদের জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত শেষ হলে প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো হবে।
তিনি বলেন, আমরা এ বিষয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়ার প্রত্যাশা করছি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো আপডেট না এলে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
জামায়াত নেতা আরও বলেন, এমন একটি সময় পরিকল্পিতভাবে এ হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটানো হয়েছে, যখন জামায়াত আমির নারীদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে নারী সমাজের আস্থা ও জনপ্রিয়তা অর্জন করছেন।
নির্বাচন সামনে রেখে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচারের অংশ হিসেবেই এই কাজ করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় একটি সরকারি ই-মেইল ব্যবহার করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। তবে এসব অপচেষ্টার মাধ্যমে জামায়াতের জনপ্রিয়তা রোধ করা যাবে না।
