বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের ঘটনাটি ‘রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ইস্যু’ হিসেবে অভিহিত করেছে দলটি। আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সিরাজুল ইসলাম তাঁর ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, এই হ্যাকিংয়ের ঘটনা নিয়ে একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমগুলোতে নির্দিষ্ট ‘স্ক্রিপ্ট’ বা সাজানো তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে।
সিরাজুল ইসলাম তাঁর বিবৃতিতে উল্লেখ করেন যে, আমিরে জামায়াতের অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং কোনো স্বাভাবিক বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। তিনি আরও দাবি করেন, জামায়াতের কাছে এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত রয়েছে এবং উপযুক্ত সময়ে সেগুলো জাতির সামনে প্রকাশ করা হবে। এই হ্যাকিং এবং পরবর্তীতে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্যের ব্যাপারে দেশবাসীকে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ৩১ জানুয়ারি ডা. শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড এক্স হ্যান্ডেল থেকে নারী অবমাননাকর একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। জামায়াত শুরু থেকেই দাবি করে আসছে, ফিশিং ইমেইলের মাধ্যমে অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পোস্ট দেওয়া হয়েছিল। দলের সাইবার টিম দ্রুত সেটি উদ্ধার করলেও সেই স্বল্প সময়ে পোস্টটির স্ক্রিনশট নিয়ে অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ দলটির।
এই ঘটনার তদন্তে নেমে ইতোমধ্যে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে আটক করেছে। জামায়াতের অভিযোগ, বঙ্গভবনের সরকারি মেইল ব্যবহার করে ম্যালওয়্যার পাঠিয়ে এই হ্যাকিং নিশ্চিত করা হয়েছিল। তবে ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ (বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা) জানিয়েছেন, আটক কর্মকর্তার ইমেইলটি আগে থেকে হ্যাক হয়েছিল কি না, তা ফরেনসিক পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য বিরাজ করছে।
