কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ শেষে নাটকীয় মোড় নিয়েছে নির্বাচনী সমীকরণ। এ আসনে এনসিপির প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহর বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জসিম উদ্দিন ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই তিনি এই সিদ্ধান্ত জানান।
এবারের নির্বাচনে এই আসনে হাসনাত আব্দুল্লাহর বিজয়কে ঐতিহাসিক হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী তিনি ১১৬টি কেন্দ্রের একটিতেও হারেননি। এমন বিশাল ব্যবধানের মুখে জসিম উদ্দিন ফেসবুক লাইভে এসে ভোটে কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেন, উপজেলার সুবিল, বড়শালঘর ও ইউসুফপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে ব্যালট বাক্স ছিনতাই এবং তার এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে।
জসিম উদ্দিন আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনের দিন কালো টাকা বিতরণ করা হয়েছে এবং তার কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছে। প্রশাসনের কাছে বারবার সাহায্য চেয়েও কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মূলত দেবিদ্বারের জনগণের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই তিনি এই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
তবে জসিম উদ্দিনের এই অভিযোগের সঙ্গে স্থানীয় ভোটারদের অভিজ্ঞতার মিল পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, দিনভর অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে মানুষ ভোট দিয়েছে এবং কোথাও কোনো বড় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও জসিম উদ্দিনের এই ভোট বর্জনের ঘোষণা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। নেটিজেনদের অনেকেই বলছেন, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর নিশ্চিত পরাজয় বুঝতে পেরে পরাজয়ের গ্লানি এড়াতেই তিনি এমন হাস্যকর ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জনের নাটক করছেন।
দেবিদ্বারের এই নির্বাচনী ফলাফল এখন চূড়ান্ত ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে। হাসনাত আব্দুল্লাহর এমন অভাবনীয় বিজয় এই অঞ্চলের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
