আজ ১২ ফেব্রুয়ারি, শহীদ আবরার ফাহাদের ২৮তম জন্মদিন। ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর ছাত্রলীগের নির্মম নির্যাতনে অকালে প্রাণ হারানো বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ বেঁচে থাকলে আজ হয়তো তাঁর জীবনের প্রথম ভোটাধিকার প্রয়োগ করতেন। কাকতালীয়ভাবে তাঁর জন্মদিনেই বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
ভাইয়ের স্মৃতিতে আবরার ফাইয়াজ শহীদ আবরারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে লিখেছেন, “আগামীকাল ভাইয়ার আমাদের ছেড়ে যাওয়ার পরে ৭ম জন্মদিন। আবার, শহীদ ওসমান হাদীকে গুলি করারও দুই মাস। প্রায় ১৭ বছর পর নির্বাচন হতে যাচ্ছে কাল।” তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভোট দেওয়ার আগে আমাদের সেই অন্ধকার দিনগুলোর কথা স্মরণ করা উচিত, যেখান থেকে আমরা মুক্তি পেয়েছি।
নাহিদ ইসলামের শ্রদ্ধাঞ্জলি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম তাঁর ফেসবুক পোস্টে আবরার ফাহাদকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি লিখেছেন, “আবরার ফাহাদের ২৮তম জন্মদিনে এই নির্বাচন নিছক কাকতালীয় নয়; এ যেন ইতিহাসের এক গভীর বার্তা। আবরারের আত্মত্যাগ আমাদের মনে করিয়ে দেয় গণতন্ত্র মানে শুধু ভোট নয়, গণতন্ত্র মানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার।”
জামায়াত আমিরের বার্তা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আবরার ফাহাদকে ‘সার্বভৌমত্বের সাহসী কণ্ঠস্বর’ হিসেবে অভিহিত করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “আজ বাংলাদেশের জন্য এক ঐতিহাসিক দিন। আজ এই ক্ষণজন্মা বীরের ২৮ বছর পূর্ণ হতো। দেশের মর্যাদা রক্ষায় আবরার নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন।”
সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর দিবাগত রাতে ভারতের সাথে করা পানি ও গ্যাস চুক্তির সমালোচনা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগারদের পৈশাচিক নির্যাতনে নিহত হন মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ। পরবর্তীতে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আবরার ফাহাদকে মরণোত্তর ‘স্বাধীনতা পদক-২০২৫’ প্রদান করা হয় এবং ৫ অক্টোবর দিনটিকে জাতীয়ভাবে শোক দিবস পালনের ঘোষণা দেয় বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার।
