ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনরায় পাল্টাতে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ করার অভিযোগ তুলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম। বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই কড়া মন্তব্য করেন।
সাদিক কায়েম অভিযোগ করেন, ভোটগ্রহণ শেষে সন্ধ্যা হতেই সারাদেশের নির্বাচনি কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের আচরণ রহস্যজনকভাবে বদলে যায়। তিনি দাবি করেন, মিডিয়া, গোয়েন্দা সংস্থা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নির্বাচনের ফলাফলকে একটি নির্দিষ্ট দলের অনুকূলে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে তিনি নির্দিষ্ট কিছু আসনের কথা উল্লেখ করে বলেন, ঢাকা-৮, ঢাকা-১৩ এবং ঢাকা-১৭ সহ বেশ কিছু আসনের ফলাফল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আটকে রাখা হয়েছে। এমনকি ঢাকা-৪ ও ঢাকা-১৬ আসনের ফলাফল একবার ঘোষণা করার পর আবার স্থগিত করা হয়েছে, যা জনগণের রায় বদলানোর স্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে তিনি দেখছেন।
ডাকসু ভিপি আরও বলেন, সব আসনের ফলাফল এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে ঘোষণা না হলেও প্রথম সারির জাতীয় গণমাধ্যমগুলো একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে ২০০টিরও বেশি আসনে বিজয়ী বলে প্রচার করছে। তিনি এই প্রচারণাকে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির কৌশল হিসেবে অভিহিত করেন এবং নির্বাচন কমিশনকে প্রতিটি আসনের সঠিক ফলাফল স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকাশের আহ্বান জানান।
বিবৃতির শেষে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জুলাই বিপ্লবের শহিদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে কোনো সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে একটি বিশেষ দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা বিপ্লবের মূল চেতনার পরিপন্থী। তিনি জুলাইয়ের স্পিরিট রক্ষায় ছাত্র-জনতাকে সজাগ থাকারও আহ্বান জানান।
