ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও তাদের জোটের অভাবনীয় জয় এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের সম্ভাবনা বিশ্ব গণমাধ্যমের শিরোনামে প্রাধান্য পেয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ও গণমাধ্যমগুলো এই নির্বাচনকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা হিসেবে বর্ণনা করেছে।
রয়টার্স: ‘নির্বাসন থেকে ক্ষমতায়’ বিশ্বখ্যাত সংবাদ সংস্থা রয়টার্স তারেক রহমানের রাজনৈতিক যাত্রাকে তুলে ধরে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, প্রায় দুই দশকের নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফেরার দুই মাসের মাথায় নির্বাচনে জিতে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে রয়েছেন তারেক রহমান। রয়টার্স তাঁর এই সাফল্যকে তাঁর বাবা ও মায়ের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের সফল ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছে।
আল জাজিরা: ‘গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম’ কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ৬০ দশমিক ৬৯ শতাংশ ভোটারের উপস্থিতিতে এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য একটি মাইলফলক। তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে নিরঙ্কুশ অবস্থানে রয়েছে, যা ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী জনআকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন।
বিবিসি ও এপি: ‘পরিবর্তনের ম্যান্ডেট’ ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর এটিই ছিল প্রথম অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। এতে ভোটাররা শুধু সরকারই নির্বাচন করেননি, বরং সংবিধান সংস্কারের পক্ষে গণভোটেও অংশ নিয়েছেন। মার্কিন সংবাদ সংস্থা এপি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, গণবিক্ষোভে শেখ হাসিনার পতনের পর এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ একজন নতুন নেতার অধীনে ভবিষ্যৎ গড়ার রায় দিয়েছে।
তুরস্ক ও পাকিস্তানের গণমাধ্যম: ‘জনগণের জয়’ তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এবং পাকিস্তানের জিও নিউজ তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ১৫ বছরের আওয়ামী শাসনের অবসানের পর লাখো মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছে। তারা উল্লেখ করেছে যে, প্রাথমিক গণনায় বিএনপির বড় জয় এবং তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষ সংবাদমাধ্যম এই নির্বাচনকে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে অভিহিত করেছে। বিশেষ করে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ এবং ভোটারদের বিশাল অংশগ্রহণ বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে।
