ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন কেন্দ্রে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ভোটের ফলাফল কারচুপি ও ট্যাম্পারিং করার গুরুতর অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক কমিটি (এনসিপি)। এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট আসনগুলোতে ভোট পুনর্গণনার জোর দাবি জানিয়েছে দলটি। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ২টা ২০ মিনিটে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, যেসব আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন, বিশেষ করে এনসিপির প্রার্থীরা যেখানে জয়ী হওয়ার পথে, সেখানে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফলাফল পাল্টে দেওয়া হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্র থেকে পাওয়া প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের ফলাফলের সঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তার দফতর থেকে ঘোষিত ফলাফলের বড় ধরনের গরমিল পাওয়া যাচ্ছে, যার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দলটির হাতে রয়েছে।
ঢাকার নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার আগেই কিছু ক্ষেত্রে বিএনপি প্রার্থীরা নিজেদের জয়ী ঘোষণা করে এক ধরনের ‘মানসিক চাপ’ সৃষ্টি করছেন। তিনি অভিযোগ করেন, বেসরকারি গণনায় এনসিপি প্রার্থী এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও কিছু স্থানে পরিকল্পিতভাবে ‘মব’ সৃষ্টি করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করা হয়েছে। এমনকি শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থীরা বেশি ভোট পেলেও রিটার্নিং কর্মকর্তারা ধানের শীষের অনুকূলে ফলাফল ঘোষণা করছেন বলে তিনি দাবি করেন।
ঢাকা-৮ আসনের উদাহরণ টেনে আসিফ মাহমুদ বলেন, সেখানে বিপুল পরিমাণ বাতিল যোগ্য ভোটকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে গণনা করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ব্যালট পেপারে সঠিক স্থানে সিল না থাকা সত্ত্বেও মির্জা আব্বাসকে জয়ী করতে ওইসব ভোট গণনায় ধরা হয়েছে। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা একে অপরের ওপর দায় চাপাচ্ছেন বলে তিনি জানান।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে এনসিপি মুখপাত্র নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, উত্থাপিত অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে প্রতিটি বিষয় খতিয়ে দেখতে হবে। সুনির্দিষ্ট তথ্য যাচাই ও বিতর্কিত আসনগুলোতে ভোট পুনর্গণনা না করা পর্যন্ত কোনো ফলাফল চূড়ান্ত হিসেবে ঘোষণা না করার জন্য তিনি জোর দাবি জানান।
