ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক চরিত্র নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সরাইলের শাহবাজপুরে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, “বিএনপির মধ্যে এখনই আওয়ামী লীগের ছায়া দেখতে পাচ্ছি।”
রুমিন ফারহানা জানান, নির্বাচনের আগেই বিএনপি থেকে তাঁর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল। তাকে প্রলোভন দিয়ে বলা হয়েছিল, দলের সাথে বসলে এমপির চেয়েও বড় কিছু পাবেন। কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “১২ তারিখের আগে কোনো আলোচনা নয়। তারা যখন বুঝেছে আমার জয় নিশ্চিত, তখনই তারা এই যোগাযোগ শুরু করেছিল।”
নিজের বহিষ্কারাদেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিএনপি তো আমাকে বহিষ্কারই করে দিয়েছে। এটি এখন তারেক রহমান সাহেবের দল, আমার নয়। আমার রাজনীতি আমার কাছে, দলের রাজনীতি দলের কাছে।” তিনি আরও যোগ করেন, গত ১৮ মাসে বিএনপির নেতাকর্মীদের জুলুম, দখল, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি সাধারণ মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে, যার সঙ্গী তিনি হতে চান না।
বিএনপিকে ২০০১-২০০৬ মেয়াদের ভুলের পুনরাবৃত্তি না করার আহ্বান জানিয়ে রুমিন বলেন, গত দেড় বছরে তারা নানাভাবে মানুষকে বিরক্ত করেছে। তিনি আশা করেন, রাষ্ট্রক্ষমতায় গিয়ে বিএনপি যেন সেই পুরনো পথ না ধরে। তাঁর ভাষায়, “যে নির্বাচনের জন্য বিএনপি ১৭ বছর লড়াই করল, সেই নির্বাচনেই তাদের আচরণ অনেক জায়গায় ভালো ছিল না।”
নিজের বিজয় সম্পর্কে তিনি বলেন, বিএনপির যে নেতারা তাঁকে নিয়ে কুৎসিত মন্তব্য করেছেন, তিনি তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞ। কারণ তাঁদের কুরুচিপূর্ণ আচরণের কারণেই মানুষ তাঁর প্রতি বেশি সহানুভূতিশীল হয়েছে এবং বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী করেছে। সংসদে নিজের ভূমিকা নিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন, “আমি ৫ লাখ ভোটারের প্রতিনিধি। সরকারে যে-ই থাকুক, আমি সত্য বলব এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ করব।”
বাবার স্মৃতিচারণ করে রুমিন বলেন, ১৯৭৩ সালে তাঁর বাবা ভাষাসৈনিক অলি আহাদ এই আসন থেকে জয়ী হলেও তৎকালীন সরকার ফল পাল্টে দিয়েছিল। এবারও বিএনপি তাঁর বিরুদ্ধে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছিল প্রমাণ করতে যে, ‘রুমিন ফারহানা কেবল বিএনপির কারণেই রুমিন ফারহানা’। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকার কারণে বিএনপির সেই কারসাজি সফল হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
