ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে কর্মরত ৫০ হাজারেরও বেশি সদস্যের বিদেশি নাগরিকত্ব রয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর এক তথ্য সামনে এসেছে। দেশটির সরকারি সামরিক উপাত্তের ভিত্তিতে হিব্রু দৈনিক ‘ইয়েদিওথ আহরোনথ’ এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। ‘হাৎসলাচা’ নামক একটি স্বচ্ছতা বিষয়ক সংগঠনের তথ্য অধিকার আইনের আওতায় করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই তথ্য জনসমক্ষে আনা হয়।
প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, ইসরায়েলি জাতীয়তার পাশাপাশি মোট ৫০ হাজার ৬৩২ জন সেনার দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশটি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, যার সংখ্যা ১২ হাজার ১৩৫ জন। এরপরই রয়েছে ফ্রান্সের অবস্থান, দেশটির ৬ হাজার ১২৭ জন নাগরিক ইসরায়েলি বাহিনীতে কর্মরত। এ ছাড়াও তালিকায় ৫ হাজার রুশ নাগরিক এবং ৩ হাজার করে জার্মানি ও ইউক্রেনের নাগরিকত্বধারী সেনা রয়েছেন।
পরিসংখ্যানটিতে আরও দেখা যায়, ব্রিটিশ, রোমানীয়, পোলিশ এবং কানাডীয় নাগরিকত্বধারী সেনার সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়াও ৪ হাজার ৪৪০ জন সেনা ইসরায়েলি পাসপোর্টের পাশাপাশি দুটি বিদেশি নাগরিকত্ব বহন করছেন এবং ১৬২ জনের কাছে তিনটি দেশের নাগরিকত্ব রয়েছে। তবে ইয়েমেন, সিরিয়া বা আলজেরিয়ার মতো আরব দেশগুলোর নাগরিকত্বধারী সেনাদের সংখ্যা এই তালিকায় বেশ কম দেখানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই তথ্যের জন্য প্রায় এক বছর আগে অর্থাৎ ২০২৫ সালের মার্চ মাসে অনুরোধ করা হয়েছিল। এটিই প্রথম কোনো বিস্তারিত পরিসংখ্যান যেখানে ইসরায়েলি সামরিক সদস্যদের বিদেশি নাগরিকত্বের বিষয়টি এতো স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। তবে এই তালিকায় শুধু সক্রিয় দায়িত্ব পালনকারী সেনা নাকি রিজার্ভ সদস্যদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, সে বিষয়ে সেনাবাহিনী সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
বর্তমানে গাজায় ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে এই তথ্যটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় এ পর্যন্ত ৭২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের অর্ধেকই নারী ও শিশু। আন্তর্জাতিক মহলে যখন এই অভিযান নিয়ে তীব্র সমালোচনা চলছে, তখন ইসরায়েলি বাহিনীতে বিদেশি নাগরিকদের এই বিশাল উপস্থিতির খবর নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
