নরসিংদীর চরাঞ্চল আলোকবালি উত্তরপাড়ার কেরাসার মাজারে শুরু হয়েছে ৮৩ বছরের ঐতিহ্যবাহী তিন দিনব্যাপী ওরস। গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এই ধর্মীয় অনুষ্ঠান ঘিরে গত তিন দিন ধরে আলোকবালি এলাকায় সাজ সাজ রব বিরাজ করছে। মাজার প্রাঙ্গণে বসছে অস্থায়ী দোকানপাট এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভক্ত ও দর্শনার্থীদের সমাগম।
ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক পরিবেশের এই আয়োজনে এবার ছায়া ফেলেছে জুয়ার আসর। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওরসকে কেন্দ্র করে মাজারসংলগ্ন এলাকায় প্রতিদিন বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত ‘ছয়গুটি’ নামক বিশাল জুয়ার আসর বসছে। প্রতিটি চালে ৫০০ থেকে কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত বাজি ধরা হচ্ছে, যার ফলে প্রতিদিন প্রায় ১৫ লাখ টাকার অবৈধ লেনদেন হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে, এই জুয়ার আসরটি স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতার পরোক্ষ মদদে পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক শাহ আলম চৌধুরী এবং সদর থানা কৃষক দল ও যুবদলের কয়েকজন নেতার ছত্রছায়ায় এই অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলছে। সাধারণ মানুষ সর্বস্বান্ত হচ্ছে এবং পরিবারগুলোতে অশান্তি সৃষ্টি হচ্ছে বলে অনেক নারী ও ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন।
ওরস আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা শুধুমাত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্য প্রশাসনের অনুমতি নিয়েছেন। জুয়ার আসর সম্পর্কে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাবেই এটি চলছে বলে তারা দাবি করেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া জুয়ার ভিডিওটি এই এলাকার নয় দাবি করে অভিযুক্ত বিএনপি নেতারা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এদিকে ধর্মীয় উৎসবের আড়ালে এমন অসামাজিক কার্যকলাপে সুশীল সমাজ ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আধ্যাত্মিক পরিবেশ রক্ষা এবং তরুণ সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।
