শরীয়তপুরের সখিপুরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেওয়ার অপরাধে এক ৮০ বছরের বৃদ্ধ এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর বর্বরোচিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে স্থানীয় বিএনপির একদল দুর্বৃত্ত এই ন্যাক্কারজনক হামলা চালায়। এতে বৃদ্ধের ছোট বোনের পরিবারের অন্য সদস্যরাও গুরুতর আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনের দিন ওই বৃদ্ধ সপরিবারে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে ভোট দেন। এ নিয়ে গত রবিবার রাতে স্থানীয় বাজারে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। অভিযোগ উঠেছে, ওই তর্কের জেরে আজ সকালে স্থানীয় সোহাগ ও মনি প্যাদাসহ একদল দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বৃদ্ধের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বৃদ্ধকে মারধরের পাশাপাশি তাঁর পরিবারের নারী সদস্যদেরও কুপিয়ে জখম করে।
আহতদের আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, শুধুমাত্র রাজনৈতিক আদর্শের কারণে এবং জামায়াতকে ভোট দেওয়ায় তাঁদের ওপর এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
উল্লেখ্য যে, ত্রয়োদশ নির্বাচনের পর থেকেই শরীয়তপুরের বিভিন্ন স্থানে বিজয়ী ও পরাজিত পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। সখিপুরের এই ঘটনাটি সেই ধারাবাহিক সহিংসতারই অংশ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। জামায়াত কর্মীদের অভিযোগ, নির্বাচনের পর থেকে জেলাজুড়েই বিএনপির দুর্বৃত্তরা বেছে বেছে তাঁদের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর হামলা চালাচ্ছে।
সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
