স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করানোর বিষয়ে সাংবিধানিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) শপথ পড়ানোর পূর্ণ সাংবিধানিক এখতিয়ার রয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানে উল্লেখ আছে যে—যদি স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার উপলব্ধ না থাকেন অথবা তাঁরা শপথ পড়াতে অপারগ হন, তবে তাঁদের মনোনীত প্রতিনিধি বা দ্বিতীয় বিকল্প হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন। সেই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদে সিইসি সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন।
তবে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ সদস্যদের শপথ নিয়ে ভিন্ন মত দিয়েছেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সিইসি কেবল সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াতে পারেন, কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ পড়ানোর কোনো আইনি এখতিয়ার তাঁর নেই। সালাহউদ্দিন আহমদের মতে, বিদ্যমান সংবিধানে এমন কোনো পরিষদের শপথের বিধান এখনো যুক্ত করা হয়নি।
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, সেই লক্ষ্যে সংবিধান সংশোধন বা অ্যামেন্ডমেন্ট আনা হয় এবং তৃতীয় তফসিলে এ সংক্রান্ত শপথের ফরম ও কে শপথ পাঠ করাবেন তা নির্ধারিত হয়—তবেই কেবল এমন শপথ অনুষ্ঠান সম্ভব হতে পারে। অর্থাৎ, আইনি কাঠামো চূড়ান্ত হওয়ার আগে এমন শপথের কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি নেই।
সালাহউদ্দিন আহমদ এ সময় দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও সংবিধানের শাসন সমুন্নত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আইনি ও সাংবিধানিক পথ অনুসরণ করেই পরবর্তী সব রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
